Logo

বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:১৮
বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। এর ফলে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করল।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে বায়রা এই অনুমোদন দেয়। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের অংশ হিসেবে ফিজিক্স টেস্ট শুরুর প্রয়োজনীয় লাইসেন্স হস্তান্তর করা হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, এই অনুমোদনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে রিঅ্যাক্টরের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া শুরু করতে আর বড় কোনো নিয়ন্ত্রক বাধা থাকছে না। এ পর্যায়ে প্রথমবারের মতো রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হবে।

এর আগে প্রথম ইউনিটের প্রেসারাইজড অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৬ দশমিক ১ এমপিএ চাপ ও ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ ব্যবস্থার ১২টি পরীক্ষা সফলভাবে করা হয়। পরে ১৮ দশমিক ৬৫ এমপিএ চাপে পরীক্ষার সময় প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তা সমাধানের পর পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এখন রূপপুরের প্রথম ইউনিটে শুরু হবে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ ধাপ। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিস্তরে পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’সহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ শেষে কেন্দ্রটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে যাবে। তখন ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে টারবাইনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এ জন্য অপারেটিং প্রতিষ্ঠানকে বায়রার কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটকে প্রাথমিকভাবে কম ক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রিডে সংযুক্তির পর পরীক্ষামূলক উৎপাদন প্রক্রিয়া সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত চলতে পারে।

এনপিসিবিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

রূপপুরে বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিজ্ঞাপন

রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও দুই দফায় তা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় বর্তমানে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD