ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হবে সোনারগাঁও র্যাম্প ও ইটিসি

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পান্থকুঞ্জ পার্ক এলাকায় অবস্থিত সোনারগাঁও EN-2 র্যাম্পের নির্মাণকাজ শেষ করে ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া এবং ইলেকট্রনিক টোল আদায় ব্যবস্থা (ETC) চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল বিল্ডিংয়ে (সিসিবি) প্রকল্পের মাসিক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
সভায় সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেড (FDEE) এবং প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শুরুতে প্রকল্পের পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পরে প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান সার্বিক অগ্রগতি, চলমান নির্মাণকাজ এবং বিভিন্ন সমস্যা ও অনিষ্পন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন।
বিজ্ঞাপন
সভায় সেতু বিভাগের সচিব জানান, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পান্থকুঞ্জ পার্ক এলাকায় সোনারগাঁও EN-2 র্যাম্পের নির্মাণ অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে র্যাম্পটির নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রকল্পের রুটের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ইউটিলিটি অপসারণ ও প্রতিস্থাপনের কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেন সেতু বিভাগের সচিব।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের রুটের মধ্যে ইউটিলিটি প্রতিস্থাপন ও অপসারণ প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ আহমেদ শাফি জানান, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ওয়াসা ও বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। ব্যয় সাশ্রয় করে ইউটিলিটি স্থানান্তর ও প্রতিস্থাপনের জন্য ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড (২৪ ইসিবি) কাজ করছে।
অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে আন্তমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে টোল আদায় নিশ্চিত করতে সমন্বিত ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান দ্রুত নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয় সভায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান FDEE-কে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।
FDEE-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রকল্পের অর্থসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন সেখ প্রকল্পের অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন। সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন সোনারগাঁও EN-2 র্যাম্পের নির্মাণকাজে গতি বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ করার নির্দেশনা দেন।
বিজ্ঞাপন
সরকারের নির্দেশনার আলোকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে সেতু বিভাগের সচিব প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা ও নির্মাণের গুণগত মান বজায় রেখে বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের বাধাগুলো দূর করতে সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে নিবিড় সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।








