Logo

আট মাস মেয়াদ বাকি থাকলেও ১০ বছরে কাজ হয়েছে ৫৪ শতাংশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:২৩
আট মাস মেয়াদ বাকি থাকলেও ১০ বছরে কাজ হয়েছে ৫৪ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে নাফ নদসংলগ্ন সীমান্ত এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের জুনে। প্রায় ১০ বছর ধরে চলা এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। অথচ কাজ শেষ করতে হাতে রয়েছে আট মাসের কিছু বেশি সময়।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে ‘কক্সবাজার জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদ বরাবর পোল্ডারগুলো (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি এবং ৬৮) পুনর্বাসন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’ নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করা হয়।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় জনগণের বাধার কারণে ছয়টি পানি নিষ্কাশন অবকাঠামোর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে উত্তেজনার কারণেও বিভিন্ন সময়ে কাজ ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় মেরামত না হওয়ায় পুরোনো বাঁধগুলোর কার্যকারিতা কমে গেছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির যানবাহন নিয়ে টহল দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৬১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন বা পুনর্নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৩৩ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৪০০ মিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ঠিকাদারের লোকবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুতের কার্যক্রম চলছে।

বিজ্ঞাপন

তবে বাঁধের ওপর এইচবিবি সড়ক নির্মাণের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ৫১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৩৮ দশমিক ১০ কিলোমিটারের।

পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণেও পিছিয়ে রয়েছে প্রকল্পটি। মোট ২০টি অবকাঠামোর মধ্যে চারটির কাজ শেষ হয়েছে, ১০টির নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয়দের বাধার কারণে বাকি ছয়টির কাজ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ২২টি অকেজো পানি নিষ্কাশন অবকাঠামোর মধ্যে আটটি অপসারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৮টি আরসিসি বক্স আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটির কাজ আংশিক সম্পন্ন হয়েছে। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে।

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা নয়; বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষিজমি রক্ষাও এর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। প্রকল্পের পটভূমি অনুযায়ী, উখিয়া ও টেকনাফের পূর্বদিকে মিয়ানমারের অবস্থান। ষাটের দশকে উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্পের আওতায় নাফ নদের ডান তীর বরাবর ৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮ নম্বর পোল্ডারে বাঁধ এবং পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সমুদ্রের জোয়ার ও লবণাক্ত পানি প্রবেশ ঠেকিয়ে কৃষি ফসল রক্ষায় এসব অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিন উল্লেখযোগ্য মেরামত না হওয়ায় বাঁধ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কার্যকারিতা কমেছে। ফলে বাঁধের অভ্যন্তরে বসবাসকারী মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৪১৫ কোটি ৫৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২২২ কোটি ৫৭ লাখ ২ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৫৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ওই সময় প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ছিল ৫৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থবছর শেষে ভৌত অগ্রগতি ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে সময় কমে আসায় অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্মাণকাজে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয়দের আপত্তির কারণে বন্ধ থাকা অবকাঠামোগুলোর সমস্যা সমাধান না হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন

প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা এবং বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে গত ২২ সেপ্টেম্বর পানি সম্পদমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা স্থানীয় প্রশাসন ও উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি চলতি বছরের ১২ এপ্রিল ও ৭ সেপ্টেম্বর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এবং ১৩ মে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভায় আলোচনা করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে সহায়তা চেয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে বিজিবি, টেকনাফেরও আলোচনা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কাজ সম্পন্ন করতে স্থানীয় পর্যায়ের বাধা দূর করা, নির্মাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ জরুরি হয়ে উঠেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD