বিমানবন্দরে ৩-৪ মাস ধরে লাগেজ কাটার ঘটনা নেই: বিমানমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত তিন থেকে চার মাসে লাগেজ কাটা, ছেঁড়া কিংবা ছুড়ে ফেলার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। যাত্রীদের লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াতে নজরদারি জোরদারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যাগেজ বেল্ট এলাকা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উড়োজাহাজ থেকে নামার পর লাগেজ হাতে পেতে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তা জানার চেষ্টা করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ পরিকল্পনা একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পর্যায়ক্রমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
যাত্রীরা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাচ্ছেন বলে আগে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেই তিনি ওই তথ্য পেয়েছিলেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ট্রল করা হলেও তার বক্তব্য ছিল যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে।
বিমানমন্ত্রী জানান, লাগেজ কাটা, ছেঁড়া ও ছুড়ে ফেলার ঘটনা প্রতিরোধে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার দিনই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ সময় প্রশাসন, অপারেশন ও নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্ক্যানার স্থাপন এবং যাত্রীদের অভিযোগ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ডিসপ্লে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, প্রায় দুই মাস আগে ডিসপ্লে স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ ও স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ এর চেয়েও কম সময়ে লাগেজ পেয়েছেন। তবে উড়োজাহাজ থেকে নেমে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছাতে যাত্রীদের কিছুটা সময় লাগে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিমানবন্দর নিয়ে অতীতে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা দূর করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে এবং সেবার মান উন্নত হবে।
এদিকে রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত থাকার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া গেলে পুনরায় রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে। এর মধ্যে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দাম্মাম অথবা মদিনা রুটে কিছু যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
পরিদর্শনকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








