Logo

পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী
২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:১৭
পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। এ সমস্যা দূর করতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শুরু করে তা শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, রাজশাহীর পদ্মা নদী কীভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে, তা সবাই দেখেছেন। নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের দুটি বড় নদী পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পানির সমস্যা দূর করা যায়।

তিনি বলেন, পানির সংকট যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশের মানুষের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে যত দূর যেতে হয়, সরকার সেই চেষ্টা করবে। ইনশাআল্লাহ, পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শুরু করে শেষ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় চার হাজার আখচাষিকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী মৌসুমে তাঁদের কষ্ট কিছুটা কমে। বিএনপি বিশ্বাস করে, কৃষক বাঁচলে দেশের কৃষিও বাঁচবে।

তিনি জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যে ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা কৃষক কার্ড চালুর কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তারেক রহমান। ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করে ধাপে ধাপে কার্ড বিতরণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর দেশের ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত ফসল অনুযায়ী অন্তত একটি ফসলের জন্য সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহের চেষ্টা করবে সরকার। এ ছাড়া কৃষক কার্ড ব্যবহার করে ফসলের বিমা এবং সহজে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দেশজুড়ে খাল খনন ও নদী সংস্কার কর্মসূচি চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে গত আট মাসে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

খাল খননের ফলে কৃষকেরা সেচের পানি পাবেন এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় বাড়াতে সহায়তা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাজশাহী অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় মানুষের পানির কষ্ট বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ করার পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে গ্রামের মানুষকে সাধারণ অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য দূরের সদর হাসপাতালে যেতে হবে না।

দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বন্ধ কলকারখানা চালু করতে, কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে এবং শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়িয়ে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বেকারত্ব ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হয়।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ড সরকারের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD