Logo

নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:৩৮
নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ছবি: সংগৃহীত

দেশে সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এসব অধিকার বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, এমন পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। তাঁর মতে, পারস্পরিক সম্প্রীতি দেশের শক্তি ও অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। যেকোনো পরিস্থিতিতে এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে কখনো কখনো সমাজে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া যাবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ হাজার বছর ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত হলে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা ফুল দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। পরে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD