Logo

দেশের প্রায় অর্ধেক কিশোরীর বিয়ে হচ্ছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:০৯
দেশের প্রায় অর্ধেক কিশোরীর বিয়ে হচ্ছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় অর্ধেকের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, এ হার ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ। শিশুবিবাহ বন্ধ, মেয়েদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল।

বিজ্ঞাপন

তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন রাসেল। সফরে তিনি ঢাকার কড়াইল বস্তির পরিবারগুলোর সঙ্গে এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

রাসেল তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এগুলো হলো শিশুবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

শিশুবিবাহ বন্ধে মেয়েদের শিক্ষার ওপর গুরুত্ব

বিজ্ঞাপন

কড়াইল বস্তিতে রাসেল শিশু ও অভিভাবকদের কাছ থেকে দারিদ্র্য, পড়াশোনায় বাধা এবং মৌলিক সেবার সীমিত সুযোগের কথা শোনেন।

সেখানে বুশরা নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাসেল বলেন, “বুশরা নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। সে আমাকে জানায়, ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে শিশুবিবাহ থেকে রক্ষা করেন। মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা তাদের, তাদের কমিউনিটির এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে।”

এমআইসিএস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে। শিশুবিবাহের ফলে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি তৈরি হয় এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

ইউনিসেফ মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুবিবাহের সুযোগ তৈরি করে এমন আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ক্যাথরিন রাসেল। এ সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

রাসেল বলেন, “বাজেটের মধ্য দিয়েই অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ।”

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষায় বিনিয়োগের তাগিদ

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবির কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাসেল। এ সময় তিনি ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করে তিনি শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা—উভয় জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে শোনেন রাসেল। শিক্ষা শিশুদের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি শোষণ, পাচার, শিশুবিবাহ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতেও ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপন

রাসেল বলেন, “সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। এখন তাদের শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে—এটা হতে দেওয়া যাবে না। তাদের এবং যে কমিউনিটি তাদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের জন্য বিশ্বকে অবশ্যই বিনিয়োগ করতে হবে।”

শিশুদের সুরক্ষা ও জরুরি সেবা নিশ্চিতে কাজ করছে ইউনিসেফ

সারা দেশে শিশু ও পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সেবাগুলো শক্তিশালী করতে সরকার এবং সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি মানসম্মত শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং শিশু সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া শিশুবিবাহ ও শিশুনির্যাতন প্রতিরোধ, কিশোরীদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং শিশুদের জন্য সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর কাজও করছে সংস্থাটি। তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা, নীতিনির্ধারণে সহায়তা এবং জাতীয় ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের কাছে জরুরি সেবা পৌঁছাতে সহায়তা করছে ইউনিসেফ।

কক্সবাজারে ইউনিসেফ ও সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও তাদের পরিবারকে অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, নিরাপদ খাবার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু সুরক্ষা এবং মানসিক সহায়তাসহ জীবন রক্ষাকারী ও জরুরি সেবা দিয়ে থাকে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করা হয়।

তবে মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ায় জরুরি সেবাগুলো সচল রাখা, অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখা এবং শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহায়তা জরুরি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD