তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে সংবিধান সংশোধন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে এবং সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে কি না, জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের আইনি প্রক্রিয়া তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী-সংক্রান্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের দেওয়া রায় সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করেছেন। বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সংবিধানে এই ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বহাল করতে হবে। এ বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনই ছিল তাদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য। তাই সংবিধান সংশোধন করে এ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে শনিবার জাতীয় সংসদে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন।
আলোচনায় সংসদের উচ্চকক্ষকে কাজে লাগিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সম্ভাবনাও উঠে আসে। সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পরও উচ্চকক্ষ বহাল থাকলে সেখান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উচ্চকক্ষে উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে। বিকল্প হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে তাঁকে সরকারপ্রধান করার ধারণাও আলোচনায় উঠে এসেছে। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের দুই দলের সম্মতিতে উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগের বিধান রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এসব প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া ও কর্মপরিধি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে লিখিত মতামত দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব পাওয়া গেলে সেগুলোও কমিটির প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগের পাশাপাশি এর কাঠামো ও দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপরেখা এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি।








