Logo

মিরপুরে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ, যান চলাচল স্বাভাবিক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৪:০৩
মিরপুরে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ, যান চলাচল স্বাভাবিক
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা পোশাকশ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চলা এই আন্দোলনে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মিরপুর-১০ এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে মিরপুর-১০ থেকে ১১ ও ১২ নম্বরমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ৯টার পর মিরপুর-১০, মিরপুর-১, পল্লবী, মিরপুর-১৩ ও কাজীপাড়াসহ আশপাশের এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ গোলচত্বরে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা ১১টার কিছু আগে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে আন্দোলনকারীরা সাড়া না দিলে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

বিজ্ঞাপন

এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিক্ষেপ করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পুলিশের ধাওয়ার মুখে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে মিরপুর-২, ১১, ১৩ ও শেওড়াপাড়ার দিকে ছড়িয়ে পড়েন।

সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের স্কুল ছুটির সময় হওয়ায় অনেক অভিভাবক ও শিশু অসুস্থ বোধ করেন। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দেয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় এসআরবি সদস্যদের দেখা গেলেও তাঁরা সরাসরি সংঘর্ষে অংশ না নিয়ে মিরপুর-১০ এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ‘আমার দেশ’-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার পাপ্পু হোসেন আহত হন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো শ্রমিক বা পুলিশ সদস্যের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তরের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কিছু দুষ্কৃতকারী যুক্ত হয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল।

তিনি বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে কোনো প্রকার লাঠিচার্জ ছাড়াই শুধু সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্যও আহত হননি।

সাংবাদিকের ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ ও সাংবাদিকেরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দায়িত্ব পালন করায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানা সম্ভব হয়নি। এমন কিছু ঘটে থাকলে ফোন উদ্ধার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অন্যায়ের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে একই দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সেদিন দুপুরে শাহ আলী থানাধীন হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় হিমালয় গার্মেন্টস ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে পল্লবীর ‘২২ তলা’ পোশাক কারখানাতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের বেতন নির্ধারণে শ্রম মন্ত্রণালয় মজুরি বোর্ড গঠন করলেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মিরপুর-১০ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD