Logo

সিকেডি হাসপাতালে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন প্রধান অভিযুক্ত মঈন: র‍্যাব

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৩৭
সিকেডি হাসপাতালে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন প্রধান অভিযুক্ত মঈন: র‍্যাব
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। দাবি পূরণ না হওয়ায় মঈন ও তার সহযোগীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়ে সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রমনা পার্কে বাংলা নববর্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

র‍্যাব জানায়, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মূলহোতা মঈন উদ্দিনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সুমন, লিটন, মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, মো. স্বপন কাজী ও মো. শাওন হোসেন। এর আগে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে মঈন উদ্দিন একদল লোক নিয়ে ডা. কামরুল ইসলামের সিকেডি হাসপাতালে প্রবেশ করেন।

বিজ্ঞাপন

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, যুবদলের নাম ভাঙিয়ে নাম ব্যবহার করে তিনি হাসপাতালের কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং সেখানে ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছেন। মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ডা. কামরুল ইসলাম বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজারের বেশি মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন করে দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন এবং ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদকেও ভূষিত হন। তার প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনার পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ই তাদের রক্ষা করতে পারবে না। জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চাঁদাবাজি ও অনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জিম্মি করার চেষ্টা করেছিলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকে মঈন উদ্দিন বিভিন্নভাবে ডা. কামরুল ইসলামকে হয়রানি করে আসছিলেন। জোরপূর্বক হাসপাতালের জন্য পণ্য সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে তিনি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জনসম্মুখে অপপ্রচার চালান।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে চিকিৎসক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। পরে র‍্যাবের অভিযানে প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর হাসপাতাল এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD