Logo

নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার পুলিশের সোর্স

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
১৩ জুন, ২০২৬, ১৩:৫৯
নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার পুলিশের সোর্স
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে আটক করে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট তিনজনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানায় মামলাটি দায়ের করেন নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান। মামলায় খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও হেনস্তার পাশাপাশি অপহরণের চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, মামলার পর অভিযুক্ত সোর্স সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ওসি জানান, অভিযানের বিষয়ে আগে থেকে তাকে অবহিত করা হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসার পর তিনি জানতে পারেন যে, আটক ব্যক্তি আর কেউ নন, জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই নাঈমের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে তাকে থানা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে নাঈম ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এদিকে শনিবার (১৩ জুন) সকালে অভিযুক্ত এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে অংশ নেওয়া আরও এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার গভীর রাতে। অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে নগরীর লালখান বাজার ফ্লাইওভারের টোল প্লাজা এলাকায় নাঈম হাসানের বহনকারী যানবাহন থামানো হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটক করা হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটার, ক্রীড়া সংগঠক ও সাধারণ মানুষ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ ও জবাবদিহিতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই এ ঘটনায় জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযোগে জড়িত অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD