Logo

‘আমার বাপেরে ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আমরা দুই ভাইয়ে ওরে কোপাইছি’

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ
১৪ আগস্ট, ২০২৬, ২১:৪০
‘আমার বাপেরে ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আমরা দুই ভাইয়ে ওরে কোপাইছি’
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মাসকান্দায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সড়কে একটি দোকানে ঢুকে চাঞ্চল্যকর রাব্বি হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুল খালেককে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। চাঁদাবাজি ও পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত রাব্বি (২৫) নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল সড়কের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন। হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর র‍্যাব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে। 

মো. সামসুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল বলেও র‍্যাবের কাছে তথ্য এসেছে। তবে ওই সালিস চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে, সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, গতকাল দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বির ওপর একদল ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে বাঁচাতে তার ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাব আরও জানায়, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করেছিলেন এবং তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে খালেক দাবি করেছেন। ওই ঘটনার জেরে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এছাড়া রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এসব ক্ষোভ থেকে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‍্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিভিন্ন কথা বলেন গ্রেপ্তার আবদুল খালেক। এ সময় নিজের বাবাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিশোধ নিতে রাব্বিকে তিনি কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে জানান।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলতে থাকেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি। আমার কি কথা আছিল এইনো আওয়ার? আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্ছইন না। সন্ত্রাসী মারছি, আমার বাপেরে কোপাইছে, আমিও কোপাইছি।’

বিজ্ঞাপন

নিজের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে আবদুল খালেক বলেন, ‘আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে? কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না। যেইডি নিরীহ, হেইডির ওপরেই জুলুম; সবলগোরে পাইতো না। আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে, যারা আমার বাড়িঘর পুড়াইছে।’

নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে খালেক আরও বলেন, ‘হে (রাব্বি) প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত। যারা না দিত, হেরেই মাইরা বইতো। আমি কখনো চাঁদাবাজি করি নাই। আমার এলাকায় গিয়া জিজ্ঞেস করে দেখেন। মারছি আমরা দুই ভাইয়েই। আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই? আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা ওরে কোপাইছি।’

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাতে নিহত রাব্বির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে র‌্যাব মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিজ্ঞাপন

এসময় অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান ওসি। 

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD