Logo

চার দিন আগেই ভারত থেকে দেশে ফিরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন: পুলিশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৪৫
চার দিন আগেই ভারত থেকে দেশে ফিরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন: পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের কয়েক দিনের মধ্যেই আবার সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। তবে পালানোর আগেই যশোর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি বিদেশে অবস্থানকারী শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং চট্টগ্রামে সংঘটিত একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্ত।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে যশোরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইমনকে আটক করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন আলোচিত অপরাধে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নাজিমুল হক জানান, ইমন চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছিলেন। পরে পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পুনরায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, পুলিশের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে ইমন নিয়মিত সীমান্ত পারাপার করতেন এবং তার কাছে দেশি ও বিদেশি—দুটি পাসপোর্ট থাকতে পারে। বিষয়টি যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন চট্টগ্রামের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ। ইমন দীর্ঘদিন তার সঙ্গেই ভারতে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বড় সাজ্জাদের আরেক সহযোগী মোহাম্মদ রায়হানকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকায়ও অভিযান চালায় পুলিশ। তবে অভিযানের আগেই তিনি বাড়ির দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রায়হানকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাকে আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে।

একাধিক মামলার আসামি ইমন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমনের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় সংঘটিত জোড়া হত্যাকাণ্ড এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যার ঘটনাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ইমন অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ এবং তার কাছে ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য রয়েছে। বাকলিয়ার জোড়া হত্যাকাণ্ডে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তিনি পালন করেছিলেন বলে পুলিশের অভিযোগ।

অপরাধচক্রে নেতৃত্বের অভিযোগ

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বড় সাজ্জাদ বিদেশে চলে যাওয়ার পর চট্টগ্রামে তার অপরাধচক্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে এই নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান সক্রিয়ভাবে চক্রটি পরিচালনা করতে শুরু করেন বলে দাবি পুলিশের।

বিজ্ঞাপন

রায়হানের বিরুদ্ধেও হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

সক্রিয় শুটারদের নিয়ে পরিচালিত হতো চক্র

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী চক্রে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। ইমন ও রায়হান ওই চক্রের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার সীমান্ত পারাপার, বিদেশে অবস্থান, ব্যবহৃত পাসপোর্ট এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD