Logo

কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যাকান্ডের তদন্তে কিছু ক্লু পেয়েছে পুলিশ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:২৩
কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যাকান্ডের তদন্তে কিছু ক্লু পেয়েছে পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয়েছিল ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। নিখোঁজের প্রায় একদিন পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তে কিছু ক্লু পাওয়ার কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতীম। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরাও তাকে খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু নাঈম জানান, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর রাতভর অপ্রতীমকে খোঁজার চেষ্টা করেন তারা। তিনি বলেন, "রাতে আমাদের ছেলারা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অন্যান্য সংগঠনের ছেলেমেয়েরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে খোঁজার চেষ্টা করছি। সারারাত ধরে আমরা দলে দলে ভাগ হয়ে খুঁজছি।"

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয় বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম। তিনি বলেন, "সিসি ক্যামেরার ভিডিও পর্যবেক্ষণের সময় আমরা একটি ভিডিওতে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গেইটে অপ্রতীমকে দেখা যায়।"

উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে ক্যাপ পরা আরও একজনকে দেখা যায়। তার বয়স অপ্রতীমের চেয়ে বেশি এবং চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

"ছেলেটি অপ্রতীমের থেকে বয়সে বড় এবং তার হাটাচলাও সন্দেহজনক মনে হয়েছে। সেখান থেকে আমরা পুলিশকে বিষয়টা জানায়," বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। উপাচার্যের দাবি, ক্যাপ পরা ওই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।

শনিবার স্থানীয় এক যুবক সানন্দা এলাকার জঙ্গলে অপ্রতীমের মরদেহ দেখতে পান। মোহাম্মদ আব্দুল কাদির জ্বিলানী জানান, "আমার ভাতিজা প্রথমে জঙ্গলে একটা বাচ্চাকে পড়ে থাকতে দেখে। আমাকে বললে কাছে এসে দেখি বাচ্চাটা পড়ে আছে, মাথায় রক্ত। দেখে আমরা ভয় পেয়ে কাজ ফেলে চলে গেছি।"

পরে স্থানীয়রা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দিলে দুপুরের দিকে জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ হেফাজতে একজন

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, "এটা কী শুধুই একটা আইফোন ছিল নাকি এর সাথে আরও অন্য কিছু যুক্ত ছিল এই বিষয়টি আমরা সঠিকভাবে খতিয়ে দেখব এবং প্রকৃত যারা এর সাথে জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে।"

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, "আমার একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। আমাদের কাছে আছে একজন ব্যক্তি, জিজ্ঞাসাবাদ চলতেছে।"

এদিকে নিহত অপ্রতীমের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, "আমার জীবনে যে কয়টা করুণ মৃত্যু দেখেছি তার মধ্যে এটি একটি। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে আগামী তিন মাসের মধ্যে যাতে বিচারকার্য সম্পন্ন হয় আমি এই বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবো।"

অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় বসবাস করত সে। ঘটনার কারণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD