৯ মাসে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭, আহত ৪০১

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সারাদেশে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৩৯৬টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪০১ জন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৭৩ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক সহিংসতার তুলনায় গণপিটুনিতে মৃত্যুর সংখ্যা আড়াই গুণেরও বেশি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৯ অক্টোবর) মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটি ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং নিজস্বভাবে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম নয় মাসে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭৩ জন এবং আহত হয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬ হাজার ৪৭৩ জন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬ জন, জামায়াতের আটজন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছয়জন এবং চরমপন্থি দলের একজন রয়েছেন। বাকি ১২ জন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সদস্য অথবা তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
বিজ্ঞাপন
এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনার মধ্যে ৮৩১টি ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষের কারণে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৩৪২টি ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ১ হাজার ৫৩৯ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ৩২১টি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১১ জন, আহত হয়েছেন ২ হাজার ১৯০ জন। অন্যদিকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ৯৩টি সংঘর্ষে নয়জন নিহত এবং ৫৪৫ জন আহত হয়েছেন।
সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার ৪০২টি ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ২ হাজার ৬২৩ জন আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া গত নয় মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২০০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৫ হাজার ৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩২ হাজার ৪৩৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে ৬৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, সীমান্তে সহিংসতা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।
এইচআরএসএসের হিসাব অনুযায়ী, নয় মাসে ২৬৮টি ঘটনায় ৫২৬ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সময়ে ৫৬টি সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ৪৩৯ জন আহত এবং ৪৬ জন আটক হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় ৫২ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা ও সাতটি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের ৪৩টি হামলার ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২৪টি সহিংসতার ঘটনায় একজন নিহত, ছয়জন আহত, ছয়জন গুলিবিদ্ধ এবং ১৩ জন আটক হয়েছেন।
শ্রমিক নির্যাতনের চিত্রও উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গত নয় মাসে শ্রমিক নির্যাতনের ৫৮২টি ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত ও ১ হাজার ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচনী সহিংসতা, মব ও গণপিটুনি, নারী-শিশু-সাংবাদিক নির্যাতনসহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের মতো ঘটনাগুলো প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কেননা এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।’








