Logo

ফ্রুট ব্যাগিং এ নতুন স্বপ্ন দেখছে সাপাহারের আমচাষিরা

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২৩:৪৬
ফ্রুট ব্যাগিং এ নতুন স্বপ্ন দেখছে সাপাহারের আমচাষিরা
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রুট ব্যাগিং বলতে ফল গাছে থাকা অবস্থায় বিশেষ ধরনের কাগজের তৈরি ব্যাগ দ্বারা ফলকে আবৃত করাকে বুঝায় এবং এর পর থেকে ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত গাছেই লাগানো...

বিজ্ঞাপন

ফ্রুট ব্যাগিং বলতে ফল গাছে থাকা অবস্থায় বিশেষ ধরনের কাগজের তৈরি ব্যাগ দ্বারা ফলকে আবৃত করাকে বুঝায় এবং এর পর থেকে ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত গাছেই লাগানো থাকে ব্যাগটি। নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফল খেতে কে না চাই। আর খাদ্যের নিরাপত্তা ঠিক থাকলে দাম নিয়েও ভোক্তার কোনো সমস্যা থাকে না। এ কারণেই গত কয়েক বছরে নওগাঁর সাপাহারে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আমের ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি। এ ব্যাগিং পদ্ধতি নওগাঁর সাপাহারের আম চাষিদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। 

পদ্ধতিটি নিরাপদ হওয়ায় বিদেশেও চাহিদা বাড়তে থাকে। এ পদ্ধতির প্রথম দিকে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয় চাষিরা তেমন একটা আগ্রহী না হলেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে এ পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। কীটনাশকের প্রয়োগ একেবারেই কম থাকায় এবং ফ্রুট ব্যাগিং করা আম স্বাদ ও গুণে অটুট থাকায় এ আম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে রপ্তানি হতে থাকে ইউরোপের দেশগুলোতে। এ ব্যাগিং পদ্ধতি আম চাষিদের দেখাচ্ছে নতুন স্বপ্ন। 

বিজ্ঞাপন

আম গবেষণা কেন্দ্রের সূত্রমতে, আমের মুকুল আসার পর ৪০-৪৫ দিন বয়সের আম হলেই সে আমে ব্যাগিং করা যায়। তবে এরপরেও ব্যাগিং করা যায়। এছাড়া ব্যাগিং করার আগেই মরা মুকুল বা পুষ্পমঞ্জুরির অংশবিশেষ, পত্র, উপপত্র ছিড়ে ফেলতে হয় এবং কাজটি করার সময় আমটি ব্যাগের মাঝ বরাবর রাখতে হবে। আর ব্যাগের শীর্ষ প্রান্ত এমনভাবে মুড়িয়ে দিতে হবে যেন পানি বা অন্যকিছু ভেতরে না ঢুকতে পারে। এতে করে আম বিষমুক্ত এবং রোগবালাই, বাইরের প্রখর সূর্যালোক ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়া। ফ্রুট ব্যাগিং করা আম দীর্ঘদিন ঘরে রেখে খাওয়া যায়। 

আমচাষী ও আমচাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, ‘তিনি এ বছর ৫০ হাজার আম ফ্রুট ব্যাগিং করছেন। প্রতিটি ব্যাগের খরচ পড়েছে শ্রমিক খরচ সহ প্রায় ৫টাকার উপরে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে বর্তমানে বেশ কয়েক প্রকার ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে যেগুলোর কোনটি মানহীন আর কোনটি ভাল তা নিয়ে দিধায় রয়েছি আমরা। এমনকি ব্যবসায়ীরাও অনেক সময় ব্যাগের মান নিয়ে থাকেন সংশয়ে। তাছাড়া সাপাহারের আম গাছগুলো আকারে ছোট ও নিচু হওয়ায় সবগুলো আম ব্যাগিং করা যায় এতে করে আমগুলো পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে বালাইনাশক প্রয়োগ করতে হয় না চাষিদের। বর্তমানে শ্রমিক সংকট, ব্যাগের দাম বৃদ্ধি ও ব্যাগিং করার খরচও দিন দিন বাড়ার কারণে অনেক আমচাষির ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও ও ব্যাগিং করতে পারে না। অন্যদিকে কিছু কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে ব্যাগের দাম বাড়িয়ে দিয়ে বিপাকে ফেলছেন আমাদের।’ 

বিজ্ঞাপন

সাপাহার উপজেলার কৃষিবীদ মনিরুজ্জামান জনবাণীকে বলেন, ‌‘সকল জাতের আমের জন্য ব্যাগিং করার সময় এক নয়। যেমন বারি আম-১, বারি আম-২, বারি আম-৬, বারি আম-৭, খিরসাপাত এবং ল্যাংড়া জাতের আমে ব্যাগিং করা হয় ৪০-৪৫ দিন বয়সের গুটিতে। আমের অন্যান্য জাতগুলি যেমন বারি আম-৩, বারি আম-৪, বারি আম-৮, ফজলি ও আশ্বিনা জাতে ব্যাগিং করা হয় গুটির বয়স ৬০-৬৫ দিন হলে। আমের প্রাকৃতিক ঝরা বন্ধ হলে এবং ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ শুরু হওয়ার পূর্বেই ব্যাগিং করতে হবে। ব্যাগিং করার পূর্বে অবশ্যই কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক নির্দেশিত মাত্রায় ভালভাবে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। আম গাছে মুকুল আসার আনুমানিক ১৫-২০ দিন পূর্বে প্রথমবার, আমের মুকুল ১০-১৫ সেমি লম্বা হলে দ্বিতীয়বার এবং আম যখন মটর দানার মত হবে তখন তৃতীয়বার স্প্রে করতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক নিয়মকানুন ও পদ্ধতি অনুসরণ করে যেসব চাষি ফ্রুট ব্যাগিং করছেন তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন আশা করা যায। নিরাপদ, বিষমুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের জন্য ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তিটি একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও লাভজনক প্রযুক্তি হিসেবে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।’

এসএ/ 

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD