Logo

ডিসেম্বরে ঘনিয়ে আসছে মহাবিপদ!

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:০২
ডিসেম্বরে ঘনিয়ে আসছে মহাবিপদ!
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল-নিনো। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, চলতি এল-নিনোর তীব্রতা আগামী ডিসেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং এর প্রভাব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এবারের এল-নিনো ১৯৫০ সালের পর পর্যবেক্ষণ করা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের ধরনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে কোথাও খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক সংস্থার ৮ অক্টোবর প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। ডিসেম্বরের দিকে এই উষ্ণতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, এল-নিনোর অন্যতম প্রধান নির্দেশক নিনো-৩.৪ সূচকে জুনে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। নতুন পূর্বাভাসে অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে গড় অস্বাভাবিকতা ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল-নিনোর সময় নিনো-৩.৪ অঞ্চলে তাপমাত্রার সর্বোচ্চ অস্বাভাবিকতা ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবারের পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, এল-নিনো নিজে পৃথিবীতে নতুন করে তাপ সৃষ্টি করে না; বরং মহাসাগরে সঞ্চিত তাপ বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। বর্তমানে এল-নিনোর কেন্দ্রস্থল প্রশান্ত মহাসাগরের পানি অত্যন্ত উষ্ণ থাকায় সেখানে মুক্ত হওয়ার মতো তাপের পরিমাণও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল-নিনোর প্রভাব শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরণ বদলে যেতে পারে। ডব্লিউএমও বলছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশসহ কয়েকটি অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের প্রবণতা তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে বিশ্বের কিছু অঞ্চলে বাড়তে পারে অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা।

বিজ্ঞাপন

ডব্লিউএমওর সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসেও ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল-নিনো টিকে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, এর প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের তাপমাত্রাসহ অন্যান্য জলবায়ু নিয়ামকও এর প্রভাবকে পরিবর্তিত করতে পারে।

ফলে আগামী কয়েক মাসে তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি ও বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছে ডব্লিউএমও। সংস্থাটি বলছে, পূর্বাভাসভিত্তিক প্রস্তুতি ও দ্রুত সতর্কতা জারি করলে এল-নিনোর সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সম্ভব।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD