কদিন পর জামায়াত হয়তো বলবে গোলাম আজমই স্বাধীনতার ঘোষক: রিজভী

জামায়াতের নেতাদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইতিহাস বিকৃতির ধারাবাহিকতায় তারা একদিন হয়তো দাবি করবে—গোলাম আজমই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনো পিছপা হন না। ইসলামের নামে ব্যবসা করা এবং মুনাফেকিই আপনাদের চরিত্র। ইসলাম সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে এই মুনাফেকিকে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, ইসলামের নামে রাজনীতি করে প্রতারণা ও মুনাফেকি করাই জামায়াতের চরিত্র, আর এই মুনাফেকিকেই ইসলাম সবচেয়ে ঘৃণা করে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক সমাবেশে জামায়াতের আমিরের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টা চলছে। একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৯৮৬ সালে স্বৈরশাসক এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা ও জামায়াত মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই অবস্থান বদলেছিল। অথচ বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ়ভাবে সেই নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ নয় বছর তিনি নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দিত্ব সহ্য করেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। এ কারণেই জনগণ বারবার তার প্রতি আস্থা রেখেছে।

স্বাধীনতার ঘোষক প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, প্রকৃত ইতিহাস হলো—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। সে সময় তিনি মেজর পদে থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার পথ দেখিয়েছিলেন। তার সঙ্গে যারা যুদ্ধের সময় সহযোদ্ধা ছিলেন, তারাও নিজেদের লেখায় এই সত্য স্বীকার করেছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য এখন অলি আহমেদকে সামনে এনে ভিন্ন গল্প তৈরি করার চেষ্টা চলছে। অথচ অলি আহমেদ নিজেও কখনো নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেননি; বরং তিনি বরাবরই বলেছেন, তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
জামায়াতের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, একাত্তরে যখন পাকিস্তানি বাহিনী দেশের মানুষ, বিশেষ করে মা-বোনদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে, তখন জামায়াত সেই নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি। বরং তারা হানাদারদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সেই দল আজ স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে কথা বলছে—এটি চরম ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়।
বিজ্ঞাপন
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, মাইনুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।








