Logo

তারেক জিয়ার ক্ষেত্রে আপনারা জিহ্বা দিয়ে রাস্তা চেটে ফেলতেছেন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৬:৪৯
তারেক জিয়ার ক্ষেত্রে আপনারা জিহ্বা দিয়ে রাস্তা চেটে ফেলতেছেন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-১৭ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্ট এলাকা দিয়ে চলাচলের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। গানম্যানসহ ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে পার হওয়ার বিষয়ে নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ জানানো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের সময় সেনাসদস্যরা তার পরিচয় জানতে চান। তখন তার সঙ্গে থাকা একজন বলেন, ‘ভাই উনি হলেন এই আসনের এমপি ক্যান্ডিডেট। ঠিক আছে?’

ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশপথে থাকা সেনাসদস্য তখন প্রশ্ন করেন, ‘কোন দলের স্যার?’ জবাবে বলা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামীর।’

সেনাসদস্যরা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশের বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করলে এস এম খালিদুজ্জামান এতে আপত্তি জানান এবং কথোপকথন ক্রমেই তীব্র রূপ নেয়।

বিজ্ঞাপন

খালিদুজ্জামান বলেন, আপনারা তো গান নিয়ে বসে আছেন। তারেক জিয়ার (বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান) ক্ষেত্রে তো আপনারা জিহ্বা দিয়ে রাস্তা চেটে ফেলতেছেন। আমরা কেন যেতে পারবো না...।

তখন সেনা সদস্য বলেন, স্যার এটা তো আমাকে বললে হবে না...।

বিজ্ঞাপন

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, প্রার্থী দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিরাপত্তার অংশ হিসেবেই তার সঙ্গে গানম্যান রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্য রাজনৈতিক নেতারা অস্ত্রসহ চলাচলের সুযোগ পেলে তাকে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রার্থী বলেন, আপনার পরিকল্পিতভাবে দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছেন। দিজ ইজ টোটালি, কিছু অফিসারের জন্য সেনাবাহিনী বিতর্কিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে আপনারা বিতর্কিত করছেন। প্রয়োজনে আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলবো। এখানে যে দায়িত্বে আছেন আপনি তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কেন আমার গাড়ি আটকে রাখবেন?

তিনি আরো বলেন, না না আপনারা তো আটকে রাখছেন। দিস ইজ নট ফেয়ার। টোটালি সেনাবাহিনী সম্পদ। এই সম্পদকে আপনারা বিতর্কিত করছেন ব্যক্তি স্বার্থে। ব্যক্তি স্বার্থে সরকারকেও আপনারা বিতর্কিত করছেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় ওই সেনাসদস্যকে ঊর্ধ্বতন অফিসারের কাছে কল দিতে দেখা যায়। এরপর ওই প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, ব্যক্তিস্বার্থে সরকার ও প্রশাসনকে আপনারা বিতর্কিত করতেছেন।

তখন ওই সেনাসদস্য বলেন, আমাকে একটু সময় দেন স্যার। জামায়াত প্রার্থী বলেন, একটা ডিজঅ্যাপোয়েন্টিং সিচুয়েশন করে রেখেছেন সারা দেশে। আপনাদের জন্য তাড়াতাড়ি দেশটা উচ্ছৃঙ্খল হবে। পুরো দেশটা বিশৃঙ্খল করছেন আপনারা।

এসময় সেনা সদস্যকে ফোনে বলতে শোনা যায়, ....একজন জামায়াত পদপ্রার্থী প্রবেশ করে বের হবেন। উনার সঙ্গে গানম্যান আছেন। আমি অ্যালাউ করলাম স্যার।

বিজ্ঞাপন

তখন সেনাসদস্যের উদ্দেশে ওই এমপি পদপ্রার্থী বলেন, তারেক জিয়ার (বিএনপি চেয়ারম্যান) প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম খালিদুজ্জামান বলেন। বলেন, তারেক জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী। উনি আমার ক্যান্ডিডেট।

এমপি পদপ্রার্থী ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে কথা বলতে চান। খালিদুজ্জামান সেখানে দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যকে বলেন, আমার সঙ্গে (ঊর্ধ্বতনের) কথা বলিয়ে দেন। এসময় এমপি পদপ্রার্থীর কাছে মোবাইলটি দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

খালিদুজ্জামান ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তাকে বলেন, আমি ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু আপনারা তো তারেক জিয়ার জন্য জিহ্বা দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। আমাকে কেন দেবেন না? হোয়াই নট। শোনেন। আপনার নাম কী বললেন? পরিকল্পিতভাবে, দেশটার মধ্যে কেওয়াজ সৃষ্টি করছেন আপনারা। কেন আপনারা দেশটাকে ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। কিছু অফিসার নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের ডিস্টার্ব করে, দেশটাকে ধংস করছেন। আমি সেনাপ্রধানের কাছে এটা কমপ্লেইন করতে চাই। আপনাদের অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে চাই। নির্বাচন কমিশন থেকে নিরাপত্তার জন্য দিয়েছে গানম্যান। আবার আপনি আমাকে যেতে দেবেন না কেন?

কথা শেষে খালিদুজ্জামানকে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, তোমরা ভিডিও করো যে, আমাদের গাড়ি যেতে দিচ্ছে না। এ সময় একজন সেনাসদস্য বলেন, সরি স্যার এখানে ভিডিও করা যাবে না।

ফের খালিদুজ্জামান বলেন, আপনারা কেন দেশটাকে ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক মানুষ রক্ত দিয়েছে। আর রক্ত নিয়েন না আল্লাহর ওয়াস্তে। সেনাপ্রধান দেশটাকে অত্যন্ত ঐতিহাসিকভাবে যেভাবে রক্ষা করেছেন ...

বিজ্ঞাপন

উত্তরে এক সেনাসদস্য বলেন, আমি তো আপনাকে যেতে নিষেধ করি নাই । আপনাকে বলেছি আপনি জাস্ট যান স্যার। কিন্তু আমাদের ক্যান্টনমেন্টে গান নিয়ে, অস্ত্র নিয়ে ঢোকা নিষেধ। উত্তরে খালিদুজ্জামান বলেন, ‘তাহলে আমাদের গানম্যান কেন দিচ্ছেন?

সেনাসদস্য বলেন, ক্যান্টনমেন্টের জন্য না স্যার। ক্যান্টনমেন্টের জন্য আমরাই নিরাপত্তা দিচ্ছি। আরেক সেনাসদস্য বলেন, ক্যান্টনমেন্টে আপনি সেইফ (নিরাপদ)।খালিদুজ্জামান বলেন, আমরা তো পার হয়ে যাব বলছি।

সেনাসদস্য বলেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে যদি কোনো প্রবলেম হয়ে থাকে, দায় দায়িত্ব ক্যান্টনমেন্ট নেবে। খালিদুজ্জামান বলেন, ‘পার হয়ে যাওয়ার পর কে দেখবে।

বিজ্ঞাপন

সেনাসদস্য বলেন, ক্যান্টনমেন্ট পার হয়ে যাওয়ার পর আপনার গানম্যান থাকবে স্যার। খালিদুজ্জামান বলেন, গানম্যান থাকবে না আপনার দল পিটাবে, আপনারা অন্য দল দিয়ে পিটাইয়া ... আমাদের দেখবে কে।

সেনাসদস্য বলেন, আমাদের ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে আপনি সেইফ। খালিদুজ্জামান বলেন, তারেক জিয়ার সঙ্গে হাজার হাজার অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছেন ...

সেনাসদস্য বলেন, এর জবাব এখন দিতে পারছি না।’ খালিদুজ্জামান বলেন, ‘কেন পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

সেনাসদস্য বলেন, আপনার যদি কোনো কমপ্লেইন থাকে! আপনি তো বললেন, কথা বলবেন। স্যারকে বলেন।

জামায়াত প্রার্থীর উদ্দেশে সেনাসদস্য আরও বলেন, আপনিই তো বললেন যে, সেনাপ্রধান স্যারের সঙ্গে কথা বলবেন। ইলেকশান কমিশনের সঙ্গে কথা বলবেন।

বিজ্ঞাপন

অথরিটি আপনাকে কি বলছে? ওই সেনাসদস্যের কাছে পাশ থেকে প্রশ্ন রাখা হয়। তখন সেনাসদস্য বলেন, যেতে গেলে আমাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে স্যার।

তখন জামায়াত প্রার্থী বলেন, না না সহযোগিতা না। আপনারা পরিকল্পিতভাবে দেশটাকে ধ্বংস করছেন। রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের।

জামায়াত প্রার্থী আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে দেশটাতে কেওয়াজ সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। একটা এজেন্ট হিসেবে।

দীর্ঘ সময় কথোপকথনের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। সেনাসদস্যরা জানান, প্রার্থীকে চলাচলে বাধা দেওয়া হয়নি, বরং ক্যান্টনমেন্টের নিয়ম মেনে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD