বাকস্বাধীনতা দমনে নতুন গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: তারেক রহমান

দেশের মানুষের অর্জিত স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার দাবি, একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী নতুন করে সংগঠিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের কণ্ঠ রোধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত এক বৃহৎ নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, যারা মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে চায়, তাদের প্রকৃত পরিচয় এখন আর গোপন নেই। জনগণ ইতোমধ্যে এই চক্রকে ‘গুপ্ত গোষ্ঠী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এই গোষ্ঠী শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, সমাজের ভেতরেও বিভাজন সৃষ্টি করতে সচেষ্ট। বিশেষ করে দেশের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী নারী সমাজকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করে তারা নিজেদের মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, যাদের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রতি সম্মানবোধ নেই, যারা নারী সমাজকে হেয় করতে কুণ্ঠাবোধ করে না, তাদের দ্বারা জনকল্যাণ সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— এই গোষ্ঠীর পূর্বসূরিরাই একাত্তরে দেশের নারী সমাজের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে অনৈতিক প্রলোভনের ফাঁদে ফেলতে চাইছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা নির্বাচন শুরুর আগেই এমন অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত কার্যক্রমে জড়ায়, তারা ক্ষমতায় গিয়ে কীভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে?
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভয়ভীতি দেখানো বা প্রলোভনের মাধ্যমে ভোটের রায় বদলানোর সময় শেষ। জনগণের ভোটাধিকার যাতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি হরণ করতে না পারে, সে জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
বিজ্ঞাপন
ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ফরিদপুরকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক বিভাগে উন্নীত করা হবে। এতে প্রশাসনিক সেবা সহজ হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ফরিদপুরের জনগণকে ভয় ও বাধা উপেক্ষা করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে।








