ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী ইশতেহারে ২৮ খাতে উন্নয়নের রূপরেখা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার ২৮ দফা সম্বলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে পরিবেশ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা—সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, দেশের বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণে একটি সুসমন্বিত ও নৈতিক উন্নয়ন কাঠামো প্রয়োজন।
ইশতেহারে ঘোষিত ২৮ দফা খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে— অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা, বৈদেশিক ঋণের কার্যকর ব্যবস্থাপনা, সুশাসনভিত্তিক আর্থিক খাত সংস্কার, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে টেকসই উত্তরণ এবং বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্রে রূপান্তর।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া নাগরিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা, শহর ও গ্রামকে আধুনিক নাগরিক সুবিধার আওতায় আনা, নৈতিকতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সর্বজনীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার কথাও ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। যুবসমাজের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে শ্রমবাজারের সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কৃষিখাতে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনকে একীভূত করে একটি সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা, সিনিয়র সিটিজেন ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইশতেহারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফার মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশকে বিশ্ব পর্যটনের সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা, নিরাপদ ও বহুমুখী যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, সবার জন্য পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করা, পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ এবং পরিকল্পিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত ব্যবস্থা।
এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার খাতের উন্নয়ন, শ্রম ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ সংরক্ষণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার কথাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। রপ্তানি খাত একমুখী ও শ্রমনির্ভর হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে। অধিকাংশ ভোগ্যপণ্য ও প্রযুক্তি আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষমতায় গেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রপ্তানিকে বহুমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করবে এবং মূলধনী পণ্য দেশেই উৎপাদনের উদ্যোগ নেবে।
তিনি আরও জানান, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দুর্নীতি এবং অর্থপাচার দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দল ক্ষমতায় গেলে এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বাড়িয়ে কঠিন শর্তযুক্ত ঋণ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, এই ২৮ দফা খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, টেকসই ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।








