দেশ গঠনের পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধীদের গুরুত্ব দিতে চান জাইমা রহমান

দেশ গঠনের পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। তাঁর মতে, প্রতিবন্ধী মানুষের প্রয়োজন, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তারাই সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। তাই নীতি নির্ধারণে তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার বিকল্প নেই।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল— ‘প্রোসপারিং টুগেদার: অ্যান ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ’।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ২২ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অংশ নেন। খোলা জায়গায় আয়োজিত এই মতবিনিময়ে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ারের মাঝখানে বসে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন জাইমা রহমান। তাঁর পাশে ছিলেন ইশারা ভাষার অনুবাদকারী আফরোজা খাতুন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জাইমা রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের কাছ থেকে তিনি অনেক নতুন বিষয় জেনেছেন ও শিখেছেন। নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও প্রতিবন্ধী মানুষের সক্ষমতা, দৃঢ়তা ও সাফল্য দেশ ও জাতির জন্য গর্বের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।
কেউ কেউ জানান, সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী শিশুদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। আবার কর্মসংস্থানের সুযোগও অত্যন্ত সীমিত। একজন অংশগ্রহণকারী প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে মাসে অন্তত পাঁচ হাজার টাকা করার দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
ময়মনসিংহ থেকে আসা মোকাম্মল হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে সরকারি দপ্তরগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তিনি উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন বাজেট থেকে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেন।
কুমিল্লা থেকে আগত একজন অংশগ্রহণকারী জানান, দুর্ঘটনায় এক হাত হারানোর পরও তিনি কর্মজীবনে সক্রিয় রয়েছেন। প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে একাধিক বক্তা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, চাকরি স্থায়ী করতে গড়িমসি এবং প্রতিবাদ করলে চাকরি হারানোর হুমকির কথাও আলোচনায় আসে।
বিজ্ঞাপন
শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী এক নারী কর্মস্থলে হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের সুরক্ষায় কঠোর আইন ও তার কার্যকর প্রয়োগ জরুরি। চিকিৎসা নিতে গিয়ে ইশারা ভাষা না বোঝার কারণে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি তৈরি হয়।
অনেকেই সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও সেবাকেন্দ্রে ইশারা ভাষার অনুবাদকারী নিয়োগের দাবি জানান। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
বিজ্ঞাপন
ইশারা ভাষার অনুবাদকারী আফরোজা খাতুন বলেন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় যোগাযোগজনিত সমস্যার কষ্ট তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সরকারি পর্যায়ে দোভাষী নিয়োগে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে জাইমা রহমান লেখেন, প্রতিবন্ধী মানুষের কষ্ট তারাই সবচেয়ে ভালো বোঝেন, তবে তাঁদের কথা শুনে, বুঝে ও উপলব্ধি করে এগিয়ে এলে তাঁদের পথচলা কিছুটা সহজ করা সম্ভব। তিনি এই মতবিনিময়কে ভিন্নধর্মী ও শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও তাঁদের কাছ থেকে শুনতে, শিখতে ও জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন









