তারেক রহমানকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক আলোচনায় বসার আহ্বান জামায়াত আমিরের

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রক্ষমতার বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়—এ মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করে তিনি এ আহ্বান জানান। স্ট্যাটাসে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি নির্বাচন তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়। ন্যায্যতা ও জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো নির্বাচনী ফলই জনগণের পূর্ণ বিশ্বাস অর্জন করতে পারে না। নির্বাচনের স্বচ্ছতা না থাকলে কোনো সরকারই প্রকৃত বৈধতা পায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের পর রাজনীতিবিদদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব বর্তেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সামনে রাজনীতির একটি ইতিবাচক ও সভ্য চিত্র উপস্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। রাজনীতি যে সংঘাত বা প্রতিহিংসার নয়, বরং যুক্তিনির্ভর ও জনকল্যাণমূলক হতে পারে—তা প্রমাণ করার আহ্বান জানান তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা ও জনসমালোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, রাজনীতিকে অবশ্যই জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ হতে হবে। গণমাধ্যম ও জনগণের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার মানসিকতা থেকেই একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানকে সরাসরি একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যেহেতু তারেক রহমান ইতোমধ্যে জাতির সামনে তার রাজনৈতিক ভাবনা ও কর্মসূচি তুলে ধরেছেন, তাই একটি লাইভ আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ নিজেদের ইশতেহার ও দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তিনি প্রস্তাব করেন, এমন একটি প্রকাশ্য আলোচনা আয়োজন করা হোক, যেখানে দুই নেতা নিজ নিজ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরবেন। এরপর কে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানানোই হতে পারে একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি। এ জন্য সবাইকে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান তিনি।








