Logo

এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণ মিললে সংসদ ছাড়ার ঘোষণা হাসনাতের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জুন, ২০২৬, ২০:৪০
এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণ মিললে সংসদ ছাড়ার ঘোষণা হাসনাতের
ছবি: সংগৃহীত

নিজের বিরুদ্ধে সামান্যতম দুর্নীতির প্রমাণ উপস্থাপন করা গেলে জাতীয় সংসদের সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের সব গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করেও যদি তার বিরুদ্ধে এক টাকার অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিজ্ঞাপন

বাজেট আলোচনা চলাকালে বরাদ্দ বণ্টন প্রসঙ্গে নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের স্বার্থের কথা তুলে ধরেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক অবস্থান বা বক্তব্যের কারণে যেন এলাকার সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ সময় তার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান মন্তব্য করেন যে, কোনো ব্যক্তিকে নয়, বরং জনগণের কল্যাণের জন্যই বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয় না; বরং এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় অর্থ বরাদ্দ করা হয়।

পরবর্তীতে সংসদীয় কার্যপ্রণালীর ২৭৪ বিধি অনুযায়ী ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নিয়ে বক্তব্য রাখেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ডেপুটি স্পিকারের অনুমতিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি কখনো নিজের জন্য বরাদ্দ দাবি করেননি। বরং তিনি বলেছেন, তার বক্তব্য বা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে যেন তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত না হন।

বিজ্ঞাপন

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, সংসদে এদিন জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নানা মন্তব্য করা হয়েছে। বিশেষ করে তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগ বা ইঙ্গিতের ভিত্তিতে মন্তব্য না করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত।

তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো যেতে পারে। যদি কোনো ধরনের অসৎ উপায়ে অর্জিত সম্পদ, অনিয়ম কিংবা এক টাকার দুর্নীতিরও প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।

বিজ্ঞাপন

সংসদে দেওয়া এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের সততা ও স্বচ্ছতার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অভিযোগের জবাবে তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD