Logo

একটি আসনের বিনিময়ে নীতি বিকিয়ে দিলেন: তাসনিম জারা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জুন, ২০২৬, ১৬:৩০
একটি আসনের বিনিময়ে নীতি বিকিয়ে দিলেন: তাসনিম জারা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সমাবেশে নারী অংশগ্রহণকারীদের বসার ব্যবস্থা ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন চিকিৎসক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

বিজ্ঞাপন

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার অভিযোগ তুলে পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্টদের সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের তিন রাস্তার মোড়ে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট একটি সমাবেশের আয়োজন করে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগের বিচার দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে নারী অংশগ্রহণকারীদের জন্য নির্ধারিত আসন এবং তাদের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতবিরোধ দেখা দেয়। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আবার কেউ কেউ আয়োজকদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।

এই প্রেক্ষাপটে বুধবার (২৪ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন ডা. তাসনিম জারা। সেখানে তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও মন্তব্য করেন, সামনের সারিতে একটি আসন পাওয়ার বিনিময়ে এমন কিছু নীতি বিসর্জন দেওয়া হয়েছে, যা একসময় মানুষকে বিশ্বাস করতে বলা হয়েছিল।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সামনের সারির একটি আসনের বিনিময়ে সেই সব নীতি বিকিয়ে দিলেন যা একসময় আমাদের বিশ্বাস করতে বলেছিলেন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও লেখেন, ‘একটি আসন যেমন এক দিনে দেওয়া যায়, তেমনই এক দিনে কেড়েও নেওয়া যায়। কিন্তু আদর্শই একমাত্র জিনিস যা কেউ দিতে পারে না, আর কেউ কেড়েও নিতে পারে না। যদি না নিজেই তা হাতছাড়া করেন।’

ডা. তাসনিম জারার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তাঁর পোস্টের নিচে বিভিন্ন মতের মানুষ নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান। কেউ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন, আবার কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে একই বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনও। তিনি সমাবেশস্থলের একটি ছবি শেয়ার করে নিজের ফেসবুক পোস্টে এই প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্য করেন। তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন অব ফার্স্ট ক্লাস অ্যান্ড সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেনস অব এনসিপি (এনসিপির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকদের দৃশ্যমান উপস্থাপন)। ব্যাটাগিরি মুর্দাবাদ।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নারীদের অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, এই ঘটনাটি সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মী ও নেতাদের মধ্যে সমতা, অন্তর্ভুক্তি এবং অংশগ্রহণের প্রশ্নটি এখন আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD