রাজনীতিতে এসে হারিয়েছি শান্তির ঘুম: ডা. মাহমুদা মিতু

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু বলেছেন, রাজনীতির পথ কখনোই সহজ নয়। এই অঙ্গনে দায়িত্ব, সংগ্রাম, ত্যাগ এবং নানা ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হয়। রাজনৈতিক জীবনে যুক্ত হওয়ার পর থেকে আগের মতো নির্ভার ও শান্তিপূর্ণ জীবন আর তার নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংসদে প্রথম বক্তব্য এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
পোস্টে ডা. মাহমুদা মিতু উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদে প্রথমবার বক্তব্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক জীবনের একটি স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি মনে করেন, বর্তমান সংসদের পেছনে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। সে কারণেই অনেকেই এই সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে এমন অনেক প্রতিনিধি রয়েছেন, যাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্যক্তিগত ক্ষতি ও বেদনার গল্প। কারও পরিবার রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কেউ হারিয়েছেন আপনজন, আবার কেউ মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়ে ফিরে এসেছেন। একই সঙ্গে এখানে রয়েছে জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবীণ রাজনীতিবিদদের উপস্থিতি।
রাজনৈতিক জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, রাজনীতিতে আসার পর তার জীবনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো মানসিক চাপ ও দায়িত্ববোধের বৃদ্ধি। এক কথায় সেই অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বহুদিন ধরে তিনি আগের মতো শান্তির ঘুম ঘুমাতে পারেন না।
দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্দোলনের নানা সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণতা থাকলেও এর একটি বড় অর্জন রয়েছে। তার মতে, দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি যুক্তি, তথ্য ও নীতিনির্ভর বিতর্কের সুযোগ পাচ্ছে। ভিন্নমত প্রকাশ এবং রাজনৈতিক আলোচনা করার একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
নিজের প্রথম সংসদীয় বক্তব্য নিয়েও পোস্টে কথা বলেন ডা. মিতু। তিনি দাবি করেন, বক্তব্য দেওয়ার পর সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতা, মন্ত্রী, চিফ হুইপ এবং সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও তার বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সমালোচকদের বিষয়েও মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, অনেক সময় সমালোচকদের আচরণ তাকে বিরক্ত করে, আবার কখনো তাদের প্রতি সহানুভূতিও অনুভব করেন। তবে এসব সমালোচনা তাকে দুর্বল করেনি; বরং আরও দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থানে অটল থাকতে সহায়তা করেছে।
বিজ্ঞাপন
পোস্টের শেষাংশে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তাও দেন ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং বহু মানুষের প্রাণদানের বিনিময়ে যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেটিকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। অতীতের ভুল পথে ফিরে গেলে তার পরিণতি দেশের জন্য সুখকর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।








