জামায়াত দেশকে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে ঠেলে দিতে চায়: ছাত্রদল

রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিক গণমাধ্যমকর্মী হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, এই ঘটনা ভিন্নমত ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রতি অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ এবং এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৩ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল অভিযোগ করে, সকালে ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হন বলে সংগঠনটির দাবি।
ছাত্রদলের ভাষ্যমতে, হামলার শিকারদের মধ্যে ‘দৈনিক সকাল’-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির, ‘যমুনা টেলিভিশন’-এর সিনিয়র রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকী এবং ‘কালবেলা’র সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশান রয়েছেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সাংবাদিকও বিভিন্নভাবে হামলা ও হয়রানির মুখে পড়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কিংবা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা মনে করেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
বিবৃতিতে ছাত্রদল নেতারা বলেন, দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর প্রকাশ্যে হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সামগ্রিকভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
তারা আরও দাবি করেন, এ ঘটনা প্রমাণ করে জামায়াত ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না এবং দেশকে একটি উগ্র, অসহিষ্ণু ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে ঠেলে দিতে চায়।
বিজ্ঞাপন
ছাত্রদলের বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীনতাবিরোধী ও মৌলবাদী শক্তি হিসেবে তারা যাদের চিহ্নিত করে, তাদের কর্মকাণ্ডে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি অনাস্থার প্রতিফলন দেখা যায়। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেও মন্তব্য করা হয়।
সংগঠনটি নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানায়, তারা সবসময় গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের উগ্রতা বা কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ছাত্রদল।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় সংঘটিত হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে আহত সাংবাদিকদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।
ছাত্রদলের নেতারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি। কারণ সংবাদকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে তথ্যপ্রবাহ ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।








