দামুড়হুদায় দায়সারা ভাবে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস সীমিত পরিসরে ও তড়িঘড়ি করে পালন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করা হলেও আয়োজন ছিল অনেকটাই নামমাত্র।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১০ মার্চ) সারা দেশের মতো দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস’ পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ‘দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’ প্রতিপাদ্যে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুল রহমান সাহেল। সভা শেষে বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় র্যালি ও মহড়া।
জনগুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় দিবসটিকে ঘিরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা,র্যালি ও মহড়া নামমাত্র তড়িঘড়ি করে উপজেলা পরিষদের গুটিকয়েক কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের ট্রেনিং করতে আসা প্রশিক্ষনার্থীদের নিয়েই সরকারের এ জনগুরুত্বপূর্ণ দিবসটি পালন করে শেষও করতে দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সরকারি কমিশনের (ভুমি) মো. শাহিন আলম, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার আলসাবা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মামুন, সমাজসেবা অফিসার, তোফাজ্জল হক, সমবায় অফিসার হারুন অর রশিদ, মহিলা বিষয় কর্মকর্তা হোসেন জাহান প্রমূখ।
যদিও জাতীয় এ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্থানীয় কোন সাংবাদিকে জানানো হয়নি, ফলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যম কর্মীরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, সরকারি নির্দেশনায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসেরগুরুত্ব তুলে ধরতে র্যালি, আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। যেহেতু এ ধরনের অনুষ্ঠানে সর্সাবধারণকে ভূমিকম্প অগ্নি নির্বাপন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করে। ফলে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সর্বশ্রেনীর মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি, যদিও এক্ষেত্রে তা পালন করা হয়নি। এর ফলে সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশেদ বীন ফয়সাল (তানজীর) বলেন, আমার জানামতে সরকার যে কোনো জাতীয় অনুষ্ঠান জনকল্যাণের জন্য এবং সরকারের অর্থায়নে পালন হয়ে থাকে। ফলে জনসচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাটাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কাজেই এ ধরনের অনুষ্ঠান সরকারের উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সকলের।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে সাধারণত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ থাকবার কথা। যদিও তা ছিলেন না, উপস্থিত সংখ্যাও ছিলেন নগণ্য। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের কারো পক্ষ থেকেই স্থানীয় কোন সাংবাদিক কিংবা সাংবাদিক নেতাদের কাউকেই এ বিষয়ে জানানো হয়নি, বিষয়টি দুঃখজনক।








