Logo

মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গসংগঠনের চাপ, সাংগঠনিক সংকটে বিএনপি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৩১
মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গসংগঠনের চাপ, সাংগঠনিক সংকটে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে স্বস্তির আবহে থাকলেও সাংগঠনিক দিক থেকে চাপে পড়েছে বিএনপি। দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরে না হওয়া এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বেশিরভাগ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দলটির অভ্যন্তরে স্থবিরতা ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর কেটে গেছে প্রায় এক দশক, কিন্তু নতুন কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অধিকাংশ অঙ্গসংগঠনের কমিটিই এখন মেয়াদোত্তীর্ণ বা আংশিক অবস্থায় রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের একটি বড় অংশ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সংগঠনের প্রতি মনোযোগ কমেছে। ফলে কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনের আগের মতো কর্মচাঞ্চল্যও অনেকটাই কমে গেছে। একসময় যেখানে সারাদিন নেতাকর্মীদের আনাগোনা, কর্মসূচি ও বৈঠকে মুখর থাকত, এখন সেখানে তুলনামূলক নিস্তব্ধতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় নতুন নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পদপ্রত্যাশী ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে, অনেকেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। সংগঠনের কার্যকর কমিটি না থাকায় জেলা-উপজেলা পর্যায়েও কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে।

বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে যুবদল দীর্ঘদিন ধরে আংশিক কমিটি দিয়ে চলছে। ছাত্রদলের কার্যক্রমেও সাম্প্রতিক সময়ে গতি কমেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিক দল, মৎস্যজীবী দলসহ কয়েকটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি দীর্ঘদিন ধরে গঠিত হয়নি। স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলেও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়েই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা সংগঠনের অভ্যন্তরে কোন্দল ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দিচ্ছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, চেইন অব কমান্ড দুর্বল হয়ে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পদ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ ও লবিং বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন পদপ্রত্যাশীরা।

বিজ্ঞাপন

তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি তাদের নজরেই রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সময়মতো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।

জানা গেছে, ভবিষ্যতে অঙ্গসংগঠনগুলোর কমিটি পুনর্গঠন করে নতুন মুখ আনার পরিকল্পনা রয়েছে, বিশেষ করে যারা এখন সরকারে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের সংগঠনের পদে না রাখার চিন্তাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দলের কাউন্সিল চলতি বছরের মধ্যেই আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট সময় এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর দলকে পুনর্গঠনে কিছুটা সময় লাগছে, তবে দলীয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ থেমে নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্গঠন না হলে বিএনপি দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সক্রিয় ও সুসংগঠিত করতে না পারলে দলীয় ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হচ্ছে, ক্ষমতায় থাকলেও সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া বিএনপির জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD