বিএনপিকে বিটিভির পুরোনো সম্প্রচার দেখার আহ্বান আখতারের

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ধারণা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিএনপির সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, এ ধারণার উৎস সম্পর্কে বিরোধী দল এখন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিটিভির সংরক্ষিত পুরোনো সম্প্রচার দেখে বিষয়টি পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আখতার বলেন, সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে শুরুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপি প্রথমে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছিল। অপরদিকে সরকারপক্ষ সংসদের মাধ্যমেই তা করার পক্ষে ছিল। তবে ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘ আলোচনার পর সব পক্ষ মিলেই সিদ্ধান্ত নেয় যে, গণপরিষদ বা সংসদ—কোনোটির পরিবর্তে একটি বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, এখন সেই ঐকমত্য থেকে সরে গিয়ে বিএনপি পূর্বের অবস্থান অস্বীকার করছে। আখতারের দাবি, ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের আলোচনাগুলো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল, যা দেখলে প্রকৃত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
আখতার হোসেন বলেন, ৩১ জুলাই ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে সংস্কার প্রস্তাবের আলোচনা শেষ হওয়ার পাশাপাশি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলো মতবিনিময় করেছিল। কিন্তু এখন সেই সিদ্ধান্ত অস্বীকার করে বিএনপি ‘পিছনে ফিরে যাওয়ার’ চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়াটি পাঁচটি ধাপের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে—জুলাই সনদ, আদেশ, অধ্যাদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ। কিন্তু বর্তমান আলোচনায় সরকারদলীয় সদস্যরা এসব ধাপের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরছেন না, বরং আংশিক বিষয় নিয়ে কথা বলছেন।
জুলাই সনদের একটি বিতর্কিত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গ তুলে আখতার বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রাথমিক খসড়ায় এমন কোনো নোট ছিল না। পরবর্তীতে সংসদের বাইরে স্বাক্ষরের সময় এটি যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
গণভোট নিয়ে সমালোচনার জবাবে আখতার বলেন, জুলাই সনদের প্রস্তাবনায় জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে আদেশ জারির বিষয়টি উল্লেখ ছিল। যারা এখন জনগণের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা আগে গণভোটে সমর্থন দিয়েই প্রচারণা চালিয়েছিলেন—এমন অবস্থান পরিবর্তনকে তিনি রাজনৈতিক অসংগতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে পূর্বের ঐকমত্যকে অস্বীকার করা হলে তা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ এবং পূর্বের সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি।








