Logo

বিলের কপি না পাওয়ায় ভোটে নীরব বিরোধীরা, বললেন ডা. শফিকুর রহমান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:৩৫
বিলের কপি না পাওয়ায় ভোটে নীরব বিরোধীরা, বললেন ডা. শফিকুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে বিল পাসের সময় বিরোধী দলের নীরবতা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এ বিষয়ে চিফ হুইপের সমালোচনার জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নথি হাতে না থাকায় তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনোটিই বলতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এ বক্তব্য দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে বিল বা প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ কপি সংসদ সদস্যদের কাছে পৌঁছায়নি, সে বিষয়ে কীভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আলোচনার সময় তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, প্রস্তাবিত বিলের মূল টেক্সট তাদের হাতে নেই। বিলের পূর্ণাঙ্গ কপি টেবিলে দেওয়ার জন্য স্পিকার নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা যথাসময়ে কার্যকর হয়নি। যা আমাদের সামনে নেই, সেটার পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেওয়া কীভাবে সম্ভব?

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, মাগরিবের বিরতির আগে সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যার কারণে অনেক বক্তব্য পরিষ্কারভাবে শোনা যায়নি। এর মধ্যে চিফ হুইপের কিছু মন্তব্যও তারা পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী বক্তব্য স্পিকারের মাধ্যমে দেওয়ার কথা থাকলেও, এ ক্ষেত্রে তা ঠিকভাবে অনুসরণ হয়নি বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, যদি বিলটি কমিটির পর্যায়ে থেকে থাকে, তবে সেটি চূড়ান্ত নাকি খসড়া—এ বিষয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন ছিল। সংসদ সদস্যদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত এবং তার জন্য পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আগে থেকেই সরবরাহ করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বিরোধী দলের এই অবস্থানের জবাবে বলেন, তিনি গ্যালারিকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেননি, বরং স্পিকারকেই উদ্দেশ্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি দাবি করেন, বিলটি পরে বিরোধী দলের কাছে পৌঁছানোর পর তারা এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত সম্মতি জানিয়েছেন।

এর আগে বিল পাসের সময় বিরোধী দলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিফ হুইপ বলেন, যে দাবির প্রেক্ষিতে আন্দোলন হয়েছে এবং যার সঙ্গে দেশের বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন জড়িত, সেই বিষয়ে সংসদে ভোটদানের সময় বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত ছিল।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল এবং এটি অনেক তরুণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সংসদে বিলটি পাস হলেও এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ও বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD