সরকারের বক্তব্য শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, সরকারের বক্তব্য শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে, অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন পাম্পে তেল সংগ্রহ করতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও সরকার উচ্চ মজুতের কথা বলে বাস্তবতা আড়াল করছে। সংসদে এই সংকট নিয়ে আলোচনা তোলার চেষ্টা করা হলেও তা অনুমোদন দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বর্তমান সংসদের গঠন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, সংসদে যারা রয়েছেন তাদের অনেকেই অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—কেউ কারাভোগ করেছেন, কেউ গোপন বন্দিশালায় ছিলেন, আবার কেউ মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়ে ফিরে এসেছেন। এমন অভিজ্ঞতার মানুষদের কাছ থেকেই জনগণের কষ্ট বোঝার প্রত্যাশা বেশি—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের রাজনীতিকে দেশের মানুষ ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নতুন করে সেই ধারা ফিরিয়ে আনার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও তার দল ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক লড়াই কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য ছিল না, বরং পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে। অতীত নির্বাচনে জনগণের বড় একটি অংশ তার দলের পক্ষে মত দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন, যদিও সেই ফলাফল সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষিত হওয়ার মধ্য দিয়েই দেশে নতুন করে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা জোরদার হয়েছে। এ অবস্থায় জনগণের অধিকার আদায়ে তারা রাজপথে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দেন।
দলীয় কাঠামোয় গণতন্ত্র চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যে রাজনৈতিক দল নিজের ভেতরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, তারা কখনোই দেশের মানুষের জন্য কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে পারবে না। সংসদে তাদের প্রতিনিধিরা জনগণের অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলেও আশ্বাস দেন।
বিজ্ঞাপন
সভায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষদিকে শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, দেশে কোনোভাবেই স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পুনরাবির্ভাব হতে দেওয়া হবে না এবং এ লক্ষ্যেই তাদের রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।








