সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত, ঘোষণার অপেক্ষা

আসন্ন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হবে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন। এই নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে জামায়াত মার্চজুড়ে নারী প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও মনোনয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের গণমাধ্যমকে জানান, দলের নারী প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা প্রকাশ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
দলীয় একটি সূত্র জানায়, সম্ভাব্য নারী সংসদ সদস্যদের একটি প্রাথমিক তালিকায় প্রায় ২৫ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের কাছে পাঠানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও যুক্ত ছিল। তালিকায় চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নামও আলোচনায় এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে জোটভিত্তিক হিসেবে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি আসন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবে একটি আসন। সংসদে বিভিন্ন দলের আসনসংখ্যার ভিত্তিতে এই বণ্টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যে সংখ্যক সাধারণ আসন পায়, সেটিকে ৫০ দিয়ে গুণ করে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। সেই হিসাবে বিএনপি ৩৫টি আসন পাওয়ার যোগ্য হলেও পূর্ণসংখ্যা নিশ্চিত করতে একটি আসন বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
জোটের কাঠামো অনুযায়ী, বিএনপির সঙ্গে রয়েছে গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে জামায়াতের জোটে রয়েছে এনসিপি ও খেলাফত আন্দোলন। এ প্রেক্ষাপটে জামায়াতের অংশে পড়া আসনগুলো নিয়ে দলীয়ভাবে কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের নারী বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় নেত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নারী বিভাগের নেত্রী আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পরিবারের কয়েকজন নারী সদস্যের নামও আলোচনায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর মধ্যে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী ডা. আমেনা বেগম এবং নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী হাবিবা রহমান সুইট সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে ডা. আমেনা বেগমের।
দলের নারী বিভাগের নেত্রী নুরুন্নেসা সিদ্দীকা জানিয়েছেন, প্রার্থী নির্বাচনে ধর্মীয় মূল্যবোধ, যোগ্যতা ও সৃজনশীলতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় আমিরের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত তাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।







