সংরক্ষিত নারী আসন : বিএনপির ৩৬টি টিকিটের দৌড়ে এগিয়ে যারা

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তেজনা। আগামী ৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা এবং ১২ মে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মাঠে নেমেছে বিএনপি জোট, যেখানে ৩৬টি আসন নিয়ে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংসদে আসনসংখ্যা অনুযায়ী দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট ১৩টি এবং একটি আসন থাকবে স্বতন্ত্রদের জন্য।
বিএনপিতে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে যারা :
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন— জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শাম্মী আক্তার, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি এবং রেহেনা আক্তার রানু।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি, নাদিরা চৌধুরীও আলোচনায় আছেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ এবং বিএনপির এক সময়ের প্রয়াত মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের মেয়ে ব্যারিস্টার সালিমা বেগম অরুনির নামও তালিকায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
পরিবারভিত্তিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সূত্রে আলোচনায় রয়েছেন—সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, বিএনপির সাবেক এমপি প্রয়াত আমান উল্লাহ চৌধুরী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী প্রয়াত বেগম রাহিজা খানম ঝুনুর মেয়ে নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী, লন্ডন বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিন আহমেদের মেয়ে সাবরিনা খান এবং মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়া বা এই পরিবারের অন্য কোনো সদস্য।
এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন—ঢাকা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সেলিনা সুলতানা নিশিতা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, পাবনার সাথিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুন নাহার ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা।
মহিলা দলের সহ-স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, বিএনপির প্রয়াত নেতা নাসিরুদ্দিন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, সেলিমুজ্জামান সেলিমের স্ত্রী সাবরিনা শুভ্র, ড. আব্দুল মঈন খানের মেয়ে মাহারীন খান, মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন—তাদের নিয়েও চলছে হিসাব-নিকাশ।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষা ও পেশাজীবী অঙ্গন থেকেও বেশ কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক ভিপি অধ্যাপক নাজমা সুলতানা ঝংকার, সেলিনা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরি ইসলাম, অধ্যাপক তাহমিনা বেগম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. নাহারিন খান, ডা. সৈয়দা তাজনিন ওয়াইরিস সিমকি, সাংবাদিক কাজী জেসিন, ফাতেমা বিনতে দোহা ও ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আক্তারের নামও উঠে এসেছে সম্ভাব্য তালিকায়।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়গুলো। অনেকেই মনে করছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এসব মানদণ্ড গুরুত্ব পাবে।
বিজ্ঞাপন
দলীয় সূত্র জানায়, তৃণমূলের অবদান, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা এবং গ্রহণযোগ্যতা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত ৩৬ জন নির্ধারণ করা হবে। ফলে শেষ পর্যন্ত কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে এখন চলছে জোর জল্পনা-কল্পনা।







