Logo

বিএনপির ৩৬ সংরক্ষিত নারী আসনের লড়াইয়ে শতাধিক নেত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৩৯
বিএনপির ৩৬ সংরক্ষিত নারী আসনের লড়াইয়ে শতাধিক নেত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে, যেখানে আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পাবে ৩৬টি আসন। তবে এই আসনগুলো ঘিরে দলটির ভেতরে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেত্রীর সংখ্যা ইতোমধ্যে শতাধিক ছাড়িয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী নেত্রীদের বড় একটি অংশই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেত্রীরাও আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্য থেকেও মনোনয়ন প্রত্যাশার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইতোমধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে থাকা নেত্রীরা ঢাকাকেন্দ্রিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন। দলীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ, লবিং ও তদবির—সব মিলিয়ে সরগরম রাজনৈতিক পরিবেশ। তবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণে ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেয়ে রাজনৈতিক অবদান, ত্যাগ এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদে ছিল ১৫টি আসন। পরবর্তী কয়েকটি সংসদে তা ৩০-এ উন্নীত হয়। অষ্টম সংসদে সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৫ এবং নবম সংসদ থেকে তা ৫০-এ স্থির রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক সমঝোতা অনুযায়ী এই সংখ্যা ১০০-তে উন্নীত করার কথা উঠেছিল, বর্তমান আইন অনুযায়ী এখনও ৫০টি আসনের ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সংসদে সাধারণ আসনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে দলগুলোর মধ্যে এই আসন বণ্টন করা হয় এবং সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন সংরক্ষিত আসনের প্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, দলটির কাছে নারী নেতৃত্বের বড় একটি ভাণ্ডার রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাজপথের সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা করা হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নেত্রীদের মূল্যায়নের সম্ভাবনাও এবার জোরালো।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দলটি পেয়েছে ৬৮টি আসন। এই নির্বাচনে নতুন মুখের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য—প্রায় ১৫০ জন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সাতজন নারী প্রার্থীর সবাই বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যার মধ্যে একজন স্বতন্ত্র হিসেবে জয়লাভ করেন।

এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন দলের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেত্রীদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদরাও। সাবেক সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা, পেশাজীবী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব—বিভিন্ন পটভূমির নারীরা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন। কেউ কেউ সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন, আবার কেউ মনোনয়ন না পেয়ে এই আসনের দিকে নজর দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

দলীয় নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা দীর্ঘ সময় ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন, আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছেন এবং রাজনৈতিকভাবে পরীক্ষিত—তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম নেত্রীদের খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, শরিক দলগুলোর মধ্য থেকেও কয়েকজন নেত্রীর নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের অনেকেই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য বা বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬টি আসনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত কারা সংসদে জায়গা পাচ্ছেন, তা নির্ধারণ করবে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD