আদালত কি ফেরাতে পারবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি?

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধন এনে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে সরকার। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে একই বিধান অপরিবর্তিত রেখে সংশোধনী বিল পাস হওয়ায় দলটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকরই থাকছে। তবে আইনজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সামনে প্রধান পথ হতে পারে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১১ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধন এনে অধ্যাদেশ জারি করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। তখন সংসদ কার্যকর না থাকায় সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। পরবর্তীতে তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গত ৮ এপ্রিল ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস করা হয়, যেখানে পূর্বের অধ্যাদেশের মূল বিষয়বস্তু অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে সেই সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে এবং তাদের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষে বা সমর্থনে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য প্রদানও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে হলে আইনি পথই একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মামুন মাহবুবের মতে, দলটিকে সরাসরি নিষিদ্ধ না করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে তারা চাইলে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করে নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে পারে।
অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এই নিষেধাজ্ঞার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, সংবিধানে নাগরিকদের সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। তাই শুধুমাত্র আইন করে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে সংগঠন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করা হলেও, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিছু যুক্তিসঙ্গত সীমাবদ্ধতা আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সংগঠন যদি রাষ্ট্রবিরোধী বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকে, তখনই কেবল এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
আইনজীবীরা আরও বলছেন, যদি এই আইন মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি প্রমাণিত হয়, তাহলে উচ্চ আদালত তা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। ফলে আওয়ামী লীগের জন্য আদালতে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বড় দুই রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থনভিত্তি মিলিয়ে দেশের উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ জড়িত। সে কারণে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








