Logo

ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি সংস্কার করতে চায় না: আখতার হোসেন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মে, ২০২৬, ১৭:৫৬
ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি সংস্কার করতে চায় না: আখতার হোসেন
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি আর সংস্কার করতে চায় না বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার দাবি, ক্ষমতায় আসার আগে দলটি সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিলেও এখন তারা রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রশ্নে পিছিয়ে যাচ্ছে এবং ক্ষমতাকে একচ্ছত্রভাবে ভোগ করার মানসিকতা থেকে বের হতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোটবিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি এখন এমন অবস্থান নিচ্ছে, যা থেকে স্পষ্ট হয় তারা ক্ষমতার প্রয়োজনে সংস্কারের প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে যে প্রতিনিধিত্ব ও দায়িত্ব পাওয়া যায়, বিএনপি এখনো সেটিকে গণদায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতা ভোগের সুযোগ হিসেবে দেখছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির আচরণে এখনো সেই পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বকে দায়িত্বশীল জনম্যান্ডেট হিসেবে গ্রহণ করার পরিবর্তে দলটি একে রাজনৈতিক কর্তৃত্বের জায়গা থেকে বিবেচনা করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আখতার হোসেন বলেন, ‘সংস্কারের বাহানায় নির্বাচন বিলম্বিত না হোক’—এই যুক্তি সামনে এনে জুলাই সনদে স্বাক্ষরের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তিকর।

তিনি বলেন, বিএনপি বারবার ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কথা বলছে। অথচ ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার সময় এ বিষয়টির অর্থ ছিল ভিন্নমত থাকলেও মূল সিদ্ধান্তের সঙ্গে নীতিগত একমত হওয়া। অর্থাৎ, কেউ আলাদা মত পোষণ করলেও সেটি মূল ঐকমত্যকে বাতিল করে না। বরং সম্মিলিত সিদ্ধান্তই সেখানে কার্যকর হওয়ার কথা।

বিজ্ঞাপন

আখতার হোসেন বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্ট’কে এখন কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তি তৈরির শামিল। তার মতে, এখানে মুখ্য বিষয় হলো—রাজনৈতিক দলগুলো এবং ঐকমত্য কমিশন যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল, সেটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, গণভোট সম্পন্ন হওয়ার পর বিএনপি এখন কোন বিষয়ে রাজি বা নারাজ—সেটি আর মূল প্রশ্ন নয়। গণভোটে জনগণের মতামতই সেখানে প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত।

গণভোটের বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, যে প্রশ্নগুলোতে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক কাঠামো নিয়ে। এর মধ্যে ছিল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন, নতুন কাঠামোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ ভোটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ—যে বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পূর্বে ঐকমত্য হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি এখন দাবি করছে চারটি প্রশ্নের মধ্যে সাড়ে তিনটিতে তাদের আপত্তি নেই, আর আধা প্রশ্নে আপত্তি আছে। কিন্তু সেই ‘আধা আপত্তি’ আসলে কোন বিষয়ে, তা তারা স্পষ্ট করছে না।

তার প্রশ্ন, যেসব বিষয়ে আগে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছিল, এখন সেসব প্রশ্নে বিএনপির আপত্তির জায়গা কোথায়—সেটিই জনগণের কাছে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কারণ তখন তারা জানত, গণভোটের বিরোধিতা করলে জনসমর্থন হারাতে হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনের পর এখন সেই অবস্থান বদলে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আখতার হোসেনের মতে, বিএনপি হয়তো মনে করছে নির্বাচন শেষ হলে জনগণের চাপ কমে যায়। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। জনগণ শুধু ভোট দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে না; তারা নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক অঙ্গীকার, সংস্কার প্রতিশ্রুতি ও আইন প্রণয়নের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন দেখছে কারা নির্বাচনের আগে কী বলেছিল এবং পরে কী করছে। জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব আচরণের মধ্যে পার্থক্য বিচার করছে।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির উদ্দেশে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, এখন দেখার বিষয়—ক্ষমতায় থেকে তারা কতটা কার্যকর, জনমুখী ও সংস্কারসম্মত আইন প্রণয়ন করতে পারে। শুধু এনসিপি নয়, দেশের সাধারণ মানুষও এখন সেটিই দেখতে চায়।

তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে বিএনপি কী ধরনের আইন নিয়ে আসে, তা দিয়েই বোঝা যাবে দলটি সত্যিই সংস্কারে বিশ্বাসী, নাকি কেবল ক্ষমতার রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD