বর্তমান সরকারের মেয়াদেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি দুদুর

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে দ্রুত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়েই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, যাতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া-কাজীরহাট’ রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একসময় দুটি পদ্মা সেতুর কথা বলেছিলেন। তবে যে স্থানে দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবিতে আন্দোলন হয়েছে, সেখানে এখনো সেতু নির্মাণ হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রজীবন থেকেই এ রুটে সেতুর দাবির সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে পদ্মার ওপারের মানুষ শিক্ষা ও ব্যবসায় এগিয়ে ছিল। তখন রাজধানী কলকাতায় থাকায় তাদের ঢাকায় আসার প্রয়োজন হতো না; সরাসরি কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষ নানা অবহেলার শিকার হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণ বছরের পর বছর কষ্ট সহ্য করেছে। এখন তাদের একমাত্র দাবি—দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা।
গোলটেবিলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি ডা. আবু তোহা বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া-কাজীরহাট রুটে সেতু নির্মাণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। এটি বাস্তবায়ন হলে শুধু যোগাযোগ সহজ হবে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, বর্তমানে এ রুটে ফেরি নির্ভর যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত অনির্ভরযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা এবং ঘনঘন দুর্ঘটনার কারণে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। সেতু নির্মিত হলে এসব অনিশ্চয়তা দূর হয়ে যোগাযোগ হবে দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর।
আলোচনায় অংশ নেওয়া অন্যান্য বক্তারাও বলেন, মানিকগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগের জন্য পাটুরিয়া-কাজীরহাট রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর বিকল্প নেই। এই সেতু নির্মিত হলে রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলার মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সাভার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এই সেতু বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ফেরি চলাচলজনিত দুর্ঘটনা ও কুয়াশাজনিত বিঘ্ন কমে গিয়ে জনদুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।








