Logo

লং মার্চের নামে আ.লীগকে সুযোগ করে দিলে ভালো বয়ে আনবে না

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রংপুর
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:১৩
লং মার্চের নামে আ.লীগকে সুযোগ করে দিলে ভালো বয়ে আনবে না
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোর প্রতি আওয়ামী লীগের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের ঘোষিত লং মার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মাঠে নামার সুযোগ পেলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শহীদ আবু সাঈদ চত্বর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমি এর আগে আমাদের বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান রেখেছি, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আপনারা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি সহযোগিতা না করে লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেন, সেটি কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।’

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের লং মার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার পর জামায়াতকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা এবং তার তৈরি ফ্যাসিবাদ আমাদের সবার শত্রু।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের আগের শাসনামলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, সেটির পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক সুযোগ তৈরির অবকাশ সৃষ্টি করতে পারে।

সরকারের বয়স সাত মাসে পড়েছে উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে লং মার্চের মতো কর্মসূচি দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই অল্প বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কর্মসূচি লং মার্চ করা যায় না।’ একই সঙ্গে ডিসেম্বর থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগের ডিসেম্বরের দেশে ফেরার কথিত পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ কারণে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৯৯৬ সালে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের বিএনপিবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে জামায়াত ও আওয়ামী লীগকে ঘিরে একই ধরনের কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

১১ দলীয় জোটের লং মার্চের পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াতসহ ১১ দলকে বলবো আপনারা রংপুরে যে লং মার্চ নিয়ে আসছেন, যদি প্রকৃতপক্ষেই জনবান্ধব কর্মসূচি হয়ে তাহলে ঢাকা থেকে হেঁটে রংপুরে আসুন।’

এ সময় নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘১১ দলীয় জোটের এক নেতার নাম মুখে নিতেও লজ্জা লাগে। তিনি আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে করে লং মার্চ করছেন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, লং মার্চের সমাবেশে ওই নেতা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে লং মার্চের পরিবর্তে ‘লং ড্রাইভ’ করার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

লং মার্চের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, সড়ক বন্ধ রাখার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও জ্বালানি অপচয় হয়। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বরও তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লং মার্চের কারণে যান চলাচল ব্যাহত ও জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ করেছিলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, লং মার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, সরকার ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে শ্রদ্ধা করে এবং লং মার্চে বিএনপি ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এর আগে শুক্রবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন রাশেদ খাঁন। এ সময় তাঁর সঙ্গে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব খাতে বাজেট বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে সরকারি হাসপাতালগুলোতে মানুষের আস্থা বেড়েছে এবং রোগীর চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাশেদ খাঁন বলেন, অতীতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ায় অনেক মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় অনেক মানুষের নাগালের বাইরে উল্লেখ করে তিনি সরকারি হাসপাতালগুলোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর মতে, সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো গেলে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পরিদর্শনের সময় রাশেদ খাঁন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD