Logo

মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় কারা?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২৩:৫৩
মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় কারা?
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ ঘিরে বিএনপির ভেতরে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী একাধিক নারী নেত্রী, রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য এবং পেশাজীবীর নাম ঘুরছে।

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মহিলা দল ও ছাত্রদলের নেত্রী, রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবং গণমাধ্যমের পরিচিত মুখও রয়েছেন।

সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের বড় মেয়ে নওশিন খান। তিনি বর্তমানে বিশ্বব্যাংকে কর্মরত।

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের নামও আলোচনায় রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের স্ত্রী এবং দলের সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আশরাফী পাপিয়ার নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর আলীর স্ত্রী ডা. রাবেয়া আক্তারের নামও আলোচনায় রয়েছে।

দলের সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয় নারী নেত্রীদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রেহানা আক্তার শিরিন এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদা মনির নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কাজী রেহা কবির সিগমার নামও আলোচনায় এসেছে। দলীয়ভাবে আবেদন গ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে তার পক্ষ থেকেও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।

রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের মেয়ে জয়া কাজীর নামও আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।

গণমাধ্যম অঙ্গন থেকেও আলোচনায় এসেছেন সাংবাদিক ও উপস্থাপক কাজী জেসিন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের আগস্টে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক গ্রেড-১ পদে বিটিভির মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় তিন ধরনের পরিচয় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—দলের শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্য, সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয় নারী নেত্রী এবং রাজনৈতিক ও পেশাজীবী অঙ্গনের পরিচিত মুখ। তবে এখন পর্যন্ত এসব নামের কোনোটি বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২০০ ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। পাকা ভবনের কয়েকটি কক্ষের দরজা-জানালাও ভাঙচুর করা হয়।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আসবাব, ওষুধ, আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম মামলায় আসে। শাহআলী থানায় করা মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। তাদের কয়েকজনকে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে জানা যায়।

রাড্ডা সেন্টারের জায়গা নিয়ে আলোচনায় আসা ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সঙ্গে মিষ্টির পুরোনো সম্পৃক্ততার তথ্যও সামনে আসে। ২০০৬ সালে শাহআলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে তিনি ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। ওই সময় সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে করা আবেদনে তার স্বাক্ষর ছিল।

তবে সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন মিষ্টি। তার দাবি, বর্তমানে ওই সমিতির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার কোনো ভূমিকা ছিল না।

বিজ্ঞাপন

রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় মিষ্টির নাম আলোচনায় আসার পর বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে গুরুত্ব পায়। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক দায় ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

গত ১ অক্টোবর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। সেখানে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে ‘সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করলেও পদত্যাগের কারণ জানাননি।

বিজ্ঞাপন

স্পিকারও জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যরা পদত্যাগের সময় পদত্যাগপত্রে কারণ উল্লেখ করেন না। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পদত্যাগের দিন থেকেই সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মিষ্টির পদত্যাগের পর বিএনপির জন্য বরাদ্দ সংরক্ষিত নারী আসনে পরবর্তী প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে দলটির মধ্যে আলোচনা চলছে। দলীয় একটি সূত্রের দাবি, শুধু সাংগঠনিক পদধারী নয়, সংসদে রাজনৈতিক বিতর্ক ও বক্তব্যে পরিচিত এবং অভিজ্ঞ মুখকেও বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়ে দলের একটি অংশ ভাবছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে রুমিন ফারহানার মতো পরিচিত রাজনৈতিক বক্তাকে বিতর্কে মোকাবিলা করতে সক্ষম অভিজ্ঞ মুখ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলেও ওই সূত্রের দাবি। এ কারণেই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও পেশাজীবী অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিদের নামও সম্ভাব্য তালিকায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে এসব আলোচনা এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে রূপ নেয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

শূন্য হওয়া আসনে মনোনয়ন নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনো আলোচনা হয়নি।’

ফলে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দলীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা থাকলেও আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কিংবা কোনো নাম চূড়ান্ত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD