Logo

কে এই ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, কেন আলোচনায় তিনি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:২০
কে এই ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, কেন আলোচনায় তিনি
ছবি: সংগৃহীত

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে জাতীয় আলোচনায় এসেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের পর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে স্পিকার জানান, পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে মিরপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে মিষ্টি নতুন কোনো নাম নন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত এই নেত্রী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালে বিএনপির মনোনয়নে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নির্বাচিত হন। তার আসন ছিল সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩।

এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০২ সালে তার স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন নিহত হওয়ার পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন।

পিন্টুর বোন, নিউটনের স্ত্রী

বিজ্ঞাপন

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন। তার স্বামী সাইদুর রহমান নিউটনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিউটনের মৃত্যুর পর ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হন মিষ্টি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ছাত্ররাজনীতিতেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন।

‘সমমনা সমিতি’র সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামও আলোচনায় আসে। এই সমিতির সঙ্গে মিষ্টির অতীত সম্পর্ক ছিল।

বিজ্ঞাপন

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে শাহআলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে তিনি ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি সমিতির নামে বরাদ্দ চেয়ে করা আগের একটি আবেদনেও সভাপতি হিসেবে তার নাম ও স্বাক্ষর ছিল।

তবে বর্তমানে সমিতিটির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে মিষ্টি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কমিশনার থাকাকালে সমিতির সভাপতি হিসেবে জমি বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছিলেন। রাড্ডা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

রাড্ডা সেন্টারে কী ঘটেছিল

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই শতাধিক ব্যক্তি সেখানে প্রবেশের পর স্থাপনাটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর মিষ্টির নামও আলোচনায় আসে। তবে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত চলছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় মিষ্টির বিষয়টি তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ

রাড্ডা সেন্টারের ঘটনা ঘিরে তদন্ত ও রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়। এরপর তিনি সংসদ ভবনে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

বিজ্ঞাপন

স্পিকার পরে জানান, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র পাওয়ার পরই তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতেও ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ শূন্য হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে রাড্ডা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সরাসরি ভূমিকার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে তার রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোকেও তদন্তের ফলাফলের আলোকে দেখা হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD