Logo

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ঠেকাতে দেশীয় ঐতিহ্য চর্চার আহ্বান রিজভীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:০৭
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ঠেকাতে দেশীয় ঐতিহ্য চর্চার আহ্বান রিজভীর
রুহুল কবির রিজভী | ফাইল ছবি

সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে একটি জাতির নিজস্ব পরিচয় ও স্বকীয়তা দুর্বল করার চেষ্টা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এ ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় তরুণদের দেশীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে মরমি সাধক লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘কালচার ফর ইউনিটি বাংলাদেশ’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমাদের ওপর নানাভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রচেষ্টা চলবে। কিন্তু আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার গ্যারান্টি হচ্ছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক গভীরতার উন্মোচন, চর্চা ও অনুশীলন।”

বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চর্চা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিগত ১৬-১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ওই সময়ে দেশকে একমুখী করার চেষ্টা হয়েছে। স্বাধীনতার কথা বললেও কার্যত অন্য দেশের প্রতি নির্ভরশীলতা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে তরুণেরা এসব বিষয় উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রিজভী।

বিজ্ঞাপন

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার কথা বলা হলেও দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশের সিনেমা হলে ভারতীয় সিনেমা অবাধে প্রদর্শনের উদ্যোগকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের উদাহরণ হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, একটি জাতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য তার সার্বভৌমত্ব, যা দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে চিন্তাভাবনার যে বিকাশ ঘটেছে, তার প্রতিফলন দেখা গেছে জুলাই আন্দোলনে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অমানবিক শাসনের পতন ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, লালন শাহ, মুকুন্দরামসহ বাংলার লোককবিদের চিন্তায় মানবতাবাদী দর্শনের প্রকাশ ঘটেছে। তাঁদের সৃষ্টিতে সহজ ভাষায় মানুষের মর্যাদা, আত্মপরিচয় ও মানবিকতার কথা উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীতেও এই ধারার প্রভাব দেখা যায়।

রিজভী আরও বলেন, লালনের গান ও বাউল সুর বাংলা সাহিত্য-সংগীতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতেও বাউল সুরের প্রভাব রয়েছে। তাই জাতীয় চেতনা বিকাশে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চার পাশাপাশি মানবতাবাদী দর্শনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD