Logo

‘গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:২৯
‘গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে’
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনায় হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের বিরুদ্ধে ‘গাদ্দারির’ অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব অভিযোগ করেন। পোস্টে জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হাসনাত ও সারজিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রাশেদ খাঁনের দাবি, ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরামসহ ছয় শহীদের স্মরণে আয়োজিত গায়েবানা জানাজা ও কর্মসূচিতে নারী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রিফাত রশিদ একটি প্রতিবাদলিপি লেখেন। সেটি যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হাসনাত আবদুল্লাহকে। এরপর থেকেই সমন্বয়কদের মধ্যে তাঁকে ‘হাসিনার আবদুল্লাহ’ নামে ডাকার সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেন রাশেদ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডিজিএফআইয়ের পরামর্শে হাসনাত ওই প্রতিবাদলিপির শেষ দিকে ‘আলোচনার দরজা খোলা আছে’ বাক্যটি যুক্ত করেন এবং সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এ নিয়ে সমন্বয়কদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাসনাত ডিজিএফআইয়ের পরামর্শে বাক্যটি যুক্ত করার কথা স্বীকার করেছিলেন বলেও দাবি করেন রাশেদ খাঁন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ১০ জুলাই কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রক্টর ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিমের সঙ্গে বসে ডিজিএফআইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি প্রেস নোট তৈরি করেছিলেন হাসনাত ও সারজিস। তবে শাহবাগে তাঁরা উপস্থিত হওয়ার পর অন্য সমন্বয়কেরা এতে রাজি না হওয়ায় আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, ১৯ জুলাই শহীদদের রক্তের মধ্যেই আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক এবং নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ গুম হওয়ার পর ডিজিএফআইয়ের গাড়িতে ঘোরাফেরা ও ডিবি হেফাজতে পুকুরপাড়ে বসে জুস খাওয়ার মতো ঘটনাও হাসনাত ও সারজিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাতের সমালোচনা করেন। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন গুম ও নির্বাসিত থাকা সালাহউদ্দিন আহমদকে শুধু ‘সালাউদ্দিন’ বলে সম্বোধন করা এবং বিএনপি একসময় তাঁর বিচার করবে বলে মন্তব্য করার মাধ্যমে হাসনাত তাঁর প্রতি আক্রোশ প্রকাশ করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাতেই হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD