Logo

সীমান্ত দিয়ে মাদক-অস্ত্র ঢুকলে সরকারের দরকার নেই: শফিকুর রহমান

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:২০
সীমান্ত দিয়ে মাদক-অস্ত্র ঢুকলে সরকারের দরকার নেই: শফিকুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্র ও অবৈধ অর্থ প্রবেশ ঠেকাতে না পারলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। সরকারের ভালো উদ্যোগে সমর্থন দেওয়া হবে, তবে ভুল ও অনিয়মের সমালোচনা করতেও পিছপা হবেন না তাঁরা। সরকারের ভুল ও অপকর্মের দায় বিরোধী দল নেবে না। একই সঙ্গে নিজের দলের কেউ অন্যায় বা অপরাধ করলে তাঁকেও ছাড় দেওয়া হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, আত্মীয়করণ, দলীয়করণ ও গোষ্ঠীকরণ চলছে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষতিকর। দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজরা কোনো দলের সম্পদ নন; বরং তাঁরা দলকে ডুবিয়ে দেন। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পুলিশের মধ্যে অনেক দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত। মাদক, অস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গোয়েন্দা তথ্যের উল্লেখের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের ভিত্তি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী কোথায় ও কখন বৈঠক করেছেন, তা পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। এ বিষয়ে প্রমাণ দেওয়ার চ্যালেঞ্জও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদের ভেতরেই সব সংকটের সমাধান করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সরকারি দলের কারণে তাঁদের রাজপথে নামতে হয়েছে। গণভোটের রায় মেনে নেওয়া হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া এবং সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) দলীয়করণের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিবর্তে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া যেত। অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নীতির প্রশ্নে কাউকে বড় করে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, কেউ ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত, কিন্তু অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। নিজের দলের এক সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বাদ দিতে ২৪ ঘণ্টাও সময় নেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিয়ে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁরা জোটগতভাবে অংশ নেবেন না বলে জানান তিনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের কোথায় কী ঘটছে, তা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানা যায়। তবে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে সংবাদমাধ্যমেরও দায় থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সঠিক তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সৌদি আরবের কারাগারে সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী তাঁদের বিচার হবে। তবে বন্দিদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা উচিত, যাতে তাঁরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না, তা জানা যায়।

বিজ্ঞাপন

দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাকে সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ বা অনুপ্রবেশের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকেরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও বৈদেশিক নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। ডা. শফিকুর রহমান সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নির্ভুল তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির মো. ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, সেক্রেটারি ইয়ামীন আলী, হবিগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা মোখলেছুর রহমান, সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরাও অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে ডা. শফিকুর রহমানকে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলন ও রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD