Logo

যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে: শফিকুর রহমান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৫:৪৭
যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে: শফিকুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

বিশৃঙ্খলা, ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা ঢাকতে বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে। ছোবল দিয়ে সাপ পালিয়ে যাবে, আপনাদের মরদেহ পড়ে থাকবে।’

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংসদের ভেতরেও বলেছি, এই বসন্তের কোকিল, যারা বসন্তকালে কুহু কুহু করতে এসেছে, বসন্তকাল পার হওয়ার পর তাদের আর দেখা পাবেন না। আপনাদের যখন গ্রীষ্মকাল কিংবা বর্ষাকাল আসবে, তখন এদের আর খুঁজে পাবেন না। আপনাদের ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যাবে।’

বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করে নিজেদের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সাবধান করে দিচ্ছি, বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার সমাধানের চেষ্টা করুন। যদি তা করেন এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়, মানুষ আপনাদের সমর্থন করবে। আর যদি মনে করেন, অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমিয়ে দেবেন, স্তব্ধ করে দেবেন, তাহলে আপনাদের দুঃসংবাদ দিচ্ছি, বাংলাদেশে আর তা হবে না। এই জনগণ আর ফ্যাসিবাদকে কখনো কবুল করে নেবে না। ফ্যাসিবাদের কাছে আর মাথা নত করবে না।’

বিজ্ঞাপন

সংঘবদ্ধ জনশক্তি ইতিমধ্যে প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দিন দিন এ আন্দোলনের গতি বাড়বে। একপর্যায়ে এর পূর্ণ সমাধান হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা অনেকটাই কমেছে বলে দাবি করেন ডা. শফিকুর রহমান। তার ভাষায়, ‘তার প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে। সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের জন্য তিনি যে প্রতিবাদ করেছিলেন, তার সুফল এখন মানুষ পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা চাপানো হলো যে তিনি সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন এবং সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত দিয়েছেন। যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা এর প্রতিবাদ তখনই করেছি।’

ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টিও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তাদের অপরাধ না থাকলে কেন বরখাস্ত করা হয়েছিল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিমানবন্দরে ট্রলি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে আখতারুজ্জামানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ট্রলি পেতে যাত্রীদের লটারির মতো টানাটানি করতে হতো। কেউ ট্রলি পেতেন, কেউ পেতেন না। একটি ট্রলি তিনজন যাত্রীর ব্যবহারের জন্য থাকার কথা। এরই মধ্যে দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, এতে আখতারুজ্জামানের উত্থাপিত সমস্যার স্বীকৃতি মিলেছে।

ব্যাগ কাটা ও লাগেজ চুরির অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, এখন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। লাগেজ পাওয়ার সময়ও কমেছে; শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ধন্যবাদ মেজর আখতারুজ্জামান। আপনার প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে। কাজ দিচ্ছে। এর সুফল এখন যুগ যুগ ধরে শাহজালাল বিমানবন্দরে ভোগান্তির শিকার হওয়া যাত্রীরা পাচ্ছেন। বিশেষ করে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা।’

বিজ্ঞাপন

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারাভোগের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জেল তো বহু খেটেছি। অনেক প্রতিবাদও করেছি। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ফল পাইনি। আপনি পেয়ে গেছেন। আমরা আরও লম্বা সময় জেলে ছিলাম, কিন্তু ফল পাইনি। এক মাসের বিনিময়ে আপনাকে একটা আগের কণ্ঠকে খাঁচায় ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু খাঁচায় কত দিন বন্দি রাখবেন? রাখতে পারেননি, পারবেনও না।’

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও লজ্জাজনক মামলা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আখতারুজ্জামানকে রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনাকেও লজ্জাজনক উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ভিত্তিহীন মামলায় নিম্ন আদালত থেকে তাকে জামিন দেওয়া হয়নি। চোখ বেঁধে, মাথায় হেলমেট ও বুকে সেফটি ভেস্ট পরিয়ে আদালতে নেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখান থেকে জামিন মেলেনি। পরে হাইকোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার পর তাকে চেম্বার জজ আদালতে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘সবই লজ্জার, ঘাটে ঘাটে লজ্জা, মহালজ্জা। কিন্তু যাদের লজ্জা থাকার কথা, তাদের তো লজ্জা লাগে না।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

লজ্জাবোধ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যার গায়ে কাপড় নেই, তাকে দেখে সম্ভ্রমশীল মানুষ লজ্জা পায়। কিন্তু যার গায়ে কাপড় নেই, তার কোনো লজ্জা নেই। লজ্জা কবে আসবে? লজ্জা কি নির্বাসনে থাকবে? লজ্জা আসা উচিত।’

জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না যাবে, আমাদের লড়াই তত দিন চলবে। আমাদের প্রিয় সহকর্মী প্রমাণ করেছেন, আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। এটাই আমাদের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।’

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD