Logo

ছয়টি শার্টের দামের সমান মজুরি চান আমজনতার তারেক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭:৫২
ছয়টি শার্টের দামের সমান মজুরি চান আমজনতার তারেক
আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান | ফাইল ছবি

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ছয়টি শার্টের দামের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান। একই সঙ্গে মজুরি নির্ধারণের বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের (বায়ার) প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তারেক রহমান।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, কম মজুরিতে পোশাক উৎপাদন করতে পারার কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শ্রমিকদের কম বেতনের সুবিধা নিয়ে অনেক কারখানার মালিক অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক কারখানার মালিক হয়ে উঠছেন।

বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর বিষয়ে তিনি লেখেন, লোকসানের কারণে সব কারখানা বন্ধ হয় বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে মালিকেরা বিদেশে চলে যান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পোশাকশিল্পকে ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন আমজনতা দলের এই নেতা। তাঁর মতে, রংপুর বিভাগ, শেরপুর, জামালপুর, বাগেরহাট ও খুলনা অঞ্চলে কারখানা স্থানান্তর করা হলে স্থানীয় শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে।

মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছয়টি শার্টের দামের সমপরিমাণ অর্থ শ্রমিকদের মজুরি হিসেবে দেওয়ার কথা তাঁরা আগের মজুরি আন্দোলনের সময়ও বলেছিলেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি শার্টের দাম ৩ হাজার ৫০০ টাকা ধরে ছয়টির মূল্য ২১ হাজার টাকা হয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক যুক্ত হলে একজন শ্রমিকের আয় ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।

শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে শিক্ষিত সমাজের একাংশের সমালোচনার জবাবে তিনি বিভিন্ন পেশার দক্ষ কর্মীদের পারিশ্রমিকের উদাহরণ দেন। তাঁর বক্তব্য, একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এক ঘণ্টার কাজের জন্য ৫০০ টাকা পান, আর দুই ঘণ্টা কাজের জন্য একজন স্যানিটারি মিস্ত্রিকে এক হাজার টাকার বেশি দিতে হয়। যাঁদের শ্রমের মাধ্যমে সরাসরি মূল্য সংযোজন হয়, তাঁদের দক্ষতা ও অবদান অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পোশাক কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কোনো শ্রমিক নিজের কর্মস্থলে আগুন দেবেন বলে তিনি মনে করেন না। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মজুরি বোর্ড গঠন করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং মতামত দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পোশাকের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের প্রতিনিধিদেরও রাখা প্রয়োজন।

সবশেষে শ্রমিকদের ন্যায্য অংশীদারত্বের প্রশ্ন তুলে তারেক রহমান বলেন, শ্রমিকদের অবদানে একটি কারখানা থেকে একাধিক কারখানা গড়ে উঠলে সেই অর্জনে তাঁদেরও ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করতে হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD