Logo

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে যা জানালেন রিজভী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬:৫০
স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে যা জানালেন রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা ও বিজয়ের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেবে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনা করে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দলীয় মনোনয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। ভোট গ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমার তারিখ নির্ধারিত হলে সেই সময়সূচি অনুযায়ী দলের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মতবিনিময়ে দেশের চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরিতে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি প্রতিবেশী দেশ থেকে উসকানি দিচ্ছে এবং দেশের কিছু রাজনৈতিক পক্ষ নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রিজভীর অভিযোগ, শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে পরাজিত শক্তি। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের দিন ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তাঁদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, একটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আট মাসের মধ্যে আবার বিপ্লবের কথা কেন বলা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। তাঁর মতে, সংসদে আলোচনা করে যেসব সমস্যার সমাধান সম্ভব, সেগুলো নিয়ে লংমার্চের মাধ্যমে দেশের মানুষকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপি নেতা বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ সফর করে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিপ্লবের কথা বলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি ১৭ বছর ধরে প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছে। এ আন্দোলনে দলের নেতাকর্মীরা রক্ত দিয়েছেন এবং জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে মিশে গোপনে কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণেই তাদের গুপ্ত সংগঠন বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় কলকারখানা ও বাসাবাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকল্প দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দেশে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তবে বিএনপি সহনশীলতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জমি দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে।

বিজ্ঞাপন

১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন নেতাকে কীভাবে ফাঁসির মুখোমুখি করেছে, সেটিও মানুষের জানা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল করে বিএনপিকে চাপে ফেলার চেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে চায়। তাঁর দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তাদের জোট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। চোরাইপথে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা জনগণ গ্রহণ করবে না।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD