স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল শক্তিশালী করতে চায় এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সর্বাধিকসংখ্যক প্রার্থী দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি বিস্তৃত করতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণের কাজ চলছে।
বিজ্ঞাপন
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পাঁচটি সিটি করপোরেশন এবং ১০০টি পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মেয়র-চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি। এবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বাছাই চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর শিগগিরই প্রার্থীদের নাম প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
এনসিপির নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পাশাপাশি তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ব্যক্তিদেরও প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রিয়তা, জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দল থেকে আসা ব্যক্তিদেরও এনসিপির প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে। তবে ফৌজদারি অপরাধ, জমি বা সম্পদ দখল কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রার্থী করার বিষয়ে আপত্তি রয়েছে দলটির নেতাদের।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এনসিপির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে দলটির নেতারা জানিয়েছেন, কারও রাজনৈতিক অতীতই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং স্থানীয় জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা, সেসব বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এনসিপির নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ বণ্টন এবং ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় নির্বাচনি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিচ্ছে দলটি।
দলটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে এবার শুধু প্রার্থী প্রস্তুত করাই যথেষ্ট নয়। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচনি পরিবেশ এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক সমন্বয়ের বিষয়েও প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এ জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের কার্যক্রম তদারকির পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে এনসিপি। গত ১০ মে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত তালিকায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৬৭ জন এবং পৌর মেয়র পদে ৩৩ জনসহ মোট ১০০ জন প্রার্থী রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলটির পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, এটি প্রথম ধাপের তালিকা। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য এলাকার প্রার্থীদের নামও প্রকাশ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত
দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এনসিপি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মনোনীত করা হয়েছে।
এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে দলটি।
বিজ্ঞাপন
ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, আমাদের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে এবং ১০০টি পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মেয়র-চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী ঘোষণা করা আছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থীর তালিকা করছি, এখনো শেষ হয়নি। অতি শিগগিরই আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থী ঘোষণা করবো।
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে দেখলাম, বিএনপির এমপিদের বিশেষ বরাদ্দ দিচ্ছে, যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে জয়ী করতে পারে। সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রাখছে না। এই বিষয়গুলো আমাদের নজরে আছে।
বিজ্ঞাপন
প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, আপাতত আমরা চেয়ারম্যান পর্যায়ে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করছি। এছাড়া সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর প্রার্থীদের দেখভাল করবো। জনগণের সাড়া পাচ্ছি মোটামুটি। অনেকেই যোগাযোগ করছেন। দলের বাইরেও স্থানীয়ভাবে যারা সামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত, তারাও যোগাযোগ করছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অতীতে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারও যদি ফৌজদারি অপরাধ, দখল-চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত না থাকে, স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় থাকে, তাহলে তারা এনসিপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন। সেটা যে কোনো দলের হলেও এনসিপি তাদের সাপোর্ট দেবে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, আমরা চাচ্ছি, একটি নতুন দল হিসেবে সর্বাধিক প্রার্থী যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচন হলো মানুষের কাছে যাওয়ার একটা উপলক্ষ্য। আমাদের নেতাকর্মীদের আমরা প্রশিক্ষণ করাচ্ছি, বিভিন্ন সময় সেমিনার করছি, যাতে তাদের মধ্যে যে দুর্বলতা আছে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পারে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনি ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন যেহেতু দলীয় সরকারের অধীনে হবে এবং দীর্ঘদিন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি, তাই কীভাবে সমন্বয় করতে হবে, নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় নির্বাচনি প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে, সেগুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন এবং কাজ করছি।
আলাউদ্দিন মোহাম্মদ আরও বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের নেতাকর্মীরা যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, সেজন্য আমরা উৎসাহিত করছি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি জোরালো করাও আমাদের উদ্দেশ্য।








