Logo

ইশরাকের অভিযানে বদলে যাচ্ছে গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর, তৈরি হচ্ছে সড়ক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯:১৮
ইশরাকের অভিযানে বদলে যাচ্ছে গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর, তৈরি হচ্ছে সড়ক
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকের আখড়া উচ্ছেদের পর এবার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ২৬ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা অপসারণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হলে সেখানে নতুন সড়ক নির্মাণের পথ সুগম হবে।

বিজ্ঞাপন

নতুন সড়কটি চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান তিনি।

ইশরাক হোসেন জানান, রেললাইনের পাশের রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাদকের আস্তানা গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, কেনাবেচাসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। পরিস্থিতি পরিবর্তনে ইতোমধ্যে শ্যামপুর অংশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহের অভিযানে ২৬ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা প্রায় প্রস্তুত করা হয়েছে। এখনো কয়েকটি স্থাপনা অপসারণ বাকি রয়েছে। এসব স্থাপনার অধিকাংশই অবৈধ এবং অস্থায়ীভাবে নির্মিত।

সড়কটি বাস্তবায়িত হলে আশপাশের বিভিন্ন মহল্লার সঙ্গে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত হবে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়া অনেক সহজ হবে বলে জানান সংসদ সদস্য।

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকাটিকে নিরাপদ রাখতে আরও কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এর অংশ হিসেবে সড়কে স্ট্রিট লাইট এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব ব্যবস্থা কার্যকর হলে পুলিশের নিয়মিত টহল ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনের ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ পুরো গেন্ডারিয়া এলাকার মানুষ এই উদ্যোগের সুফল পাবেন। এলাকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদকের বিস্তার ঘটছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল স্থানীয় বাসাবাড়িতেও।

নিজের নির্বাচনি এলাকার মাদকপ্রবণ স্থানগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পুলিশের টহল কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, আগে এলাকায় চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত টহল পরিচালনা করা কঠিন ছিল। তবে বাহিনীর সদস্যরা সব সময় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। নতুন সড়ক তৈরি হলে আগের সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হবে বলে তিনি আশাবাদী।

বিজ্ঞাপন

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে সাময়িক কোনো কর্মসূচি হিসেবে দেখতে চান না উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু একটি উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমার ঘোষণাটি ছিল মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে, সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নে রেল প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব সহযোগিতা করছেন বলেও জানান তিনি।

এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, পুলিশের ওয়ারী জোনের উপকমিশনার, গেন্ডারিয়া ও শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD