কোরবানির মাংস কি পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যায়, ইসলাম কী বলে?

কোরবানির সময় জবাইকারী, কসাই বা সহযোগীদের পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির মাংস বা চামড়া দেওয়া যাবে কি না—এ প্রশ্নটি প্রায়ই আলোচনায় আসে। অনেকে না জেনে কোরবানির গোশত দিয়েই পারিশ্রমিক পরিশোধ করে থাকেন। তবে ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইসলামি ফিকহবিদ ও আলেমদের মতে, কোরবানির পশুর গোশত বা চামড়া পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া বৈধ নয়। তবে নির্ধারিত পারিশ্রমিক নগদ বা অন্যভাবে পরিশোধ করার পর আলাদা করে হাদিয়া হিসেবে গোশত দেওয়া যেতে পারে।
ইসলামি গবেষণা সাময়িকী আল কাউসারে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর কোনো অংশ বিক্রি করা বা পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়। তাই জবাইকারী বা কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত বা চামড়া দেওয়াও বৈধ নয়।
বিজ্ঞাপন
হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) তাকে কোরবানির পশুর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে নির্দেশ দেন—গোশত, চামড়া ও জিন দান করতে এবং কসাইকে তা পারিশ্রমিক হিসেবে না দিতে; বরং পারিশ্রমিক নিজ পক্ষ থেকে দিতে (সহিহ মুসলিম: ১৩১৭)।
এ বিষয়ে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, কোরবানির পশুর কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দিলে কোরবানি আদায় হয়ে গেলেও এতে ত্রুটি থেকে যায়। সেই ত্রুটি দূর করতে ব্যবহৃত অংশের সমমূল্য গরিবদের সদকা করে দিতে হবে।
আরও পড়ুন: কুরবানির আগে চুল-নখ না কাটার বিধান কী?
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত পারিশ্রমিক দেওয়ার পর কসাই বা সহযোগীদের ইচ্ছাকৃতভাবে হাদিয়া হিসেবে গোশত দেওয়া বৈধ। হাদিসে যে নিষেধ এসেছে, তা শুধু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।








